June 23, 2024, 2:02 pm
ব্রেকিং নিউজ

সমসাময়িক: পৃথক জামাত, আলাদা মিছিল, এরপরও উৎসবমুখর আন্দোলন

রিপোর্টারের নাম:
  • আপডেট টাইম Sunday, November 27, 2022
  • 186 দেখা হয়েছে

মাসুক আলতাফ চৌধুরী

শুক্রবার সকালের সংবাদ সম্মেলনে শনিবারের কুমিল্লা সমাবেশ থেকে সরকারকে লালকার্ড দেখানোর ঘোষনা দেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। কুমিল্লা বিভাগীয় সমাবেশ সফলে ওই সংবাদ সম্মেলন হয়। এদিকে শুক্রবার মিছিলের নগরীতে পরিণত হয় কুমিল্লা। বিভিন্ন নেতা কর্মীরা নিজ নিজ দলীয় নেতার ছবিসহ গেঞ্জি-টুপি পরে প্লেকার্ড হাতে মিছিল করেছেন পুরো শহরে, আলাদা ভাবে। সমাবেশ মাঠে দু’দিন আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জনসমাগম শুরু হয়। শুক্রবার দুপুরে একেবারে পূর্ণ হয়ে যায় মাঠ । শুক্রবার মাঠে জুমার জামাত আদায় নিয়ে বিভক্তি হলো । ১০ মিনিটের ব্যবধানে সমাবেশ মাঠ টাউন হলে পৃথক জুমার জামাত হয়েছে। সাক্কু পৃথকভাবে জামাত করেছেন। এরপরও এনিয়ে ব্যাপক আলোচনা নেই, গণমাধ্যমের খবর প্রকাশ ছাড়া। সবাই ব্যস্ত শনিবারের সমাবেশ নিয়ে। বাঁধা ছাড়া সমাবেশ,তারপরও আগে এসেছেন সবাই। মানুষের ঢল নামায়, আন্দোলন উৎসবমুখর হয়ে ওঠেছে। একদিন আগেই মাঠ দখলে নিয়েছেন নেতা-কর্মীরা। মাঠ পুরে গেছে।
পরিবহন ধর্মঘট নেই, তবুও আগের দিনই আসলেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। দু’দিন আগ থেকেই ভীড় শুরু। শহর জুড়েই থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা। কোথাও বাঁধা নেই। খাবারের দোকান, থাকার হোটেল সবই খোলা। উৎসবমুখর একটা পরিবেশ। যে যার মতো আসছেন। রিজার্ভ বাসেই এসেছেন বেশি। নেতারাই ব্যবস্থা করেছেন। ট্রেনেও এসেছেন অনেকে।
শুক্রবার সকালের সংবাদ সম্মেলনে ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতা বরকত উল্লাহ বুলু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাজি আমিন উর রশিদ ইয়াছিনসহ স্থানীয় নেতারাও ছিলেন। কুমিল্লা সমাবেশ স্মরণসময়ের সর্ববৃহৎ হবে জানিয়ে ড. মোশাররফ বলেন, এ সমাবেশ থেকেই অবৈধ সরকারকে লালকার্ড দেখানো হবে। তিনি বিভিন্ন উপজেলা ও জেলায় দলীয় নেতা- কর্মীদের ওপর হামলা ও পুলিশী গ্রেফতারের অভিযোগ করেন।
এদিকে জুমার নামাজের আয়োজনও মাঠেই করা হয়। কারণ মাঠ পূর্ণ হতে শুরু করে সকাল থেকেই। দুপুর একটা পনেরো মিনিটে জামাত শুরু হয় পশ্চিম পাশে। ড. মোশাররফ, আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, মোস্তাক মিয়াসহ আগত নেতারা অংশ নেন। তার দশ মিনিট আগে মাঠের পূর্ব পাশে পৃথক জামাত করেন সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। গণমাধ্যমে তাঁর ভাষ্য, আমি বহিষ্কৃত হলেও মাঠে আছি। আগেই জামাতের ঘোষণা ছিল। কেউ আমাকে ওই জামাতে অংশ নিতে বলেন নি। আর ওই পক্ষের নেতাদের ভাষ্য, আসলে বারণ ছিল না, নামাজে রাজনীতি নয়। এ খবর হয়েছে গণমাধ্যম জুড়ে। কিন্তু এ নিয়ে প্রভাব পড়েনি সমাবেশে।
শুক্রবার সকাল থেকেই মিছিলের শহরে রুপ নেয় কুমিল্লা। কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মিছিল আসতে থাকে। জুমার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুরের মিছিলও শহরে ঢোকে। দুপুরে চাঁদপুর কচুয়ার ডঃ এহসানুল হক মিলনের কর্মী-সমর্থকদের মিনিট্রাকের বিশাল মিছিল শহরে চোখে পড়ে। সবাই গেঞ্জি- টুপি প্লেকার্ড হাতে শ্লোগানে মুখরিত ছিল। দুপুর-বিকালে জনস্রোত নামে মাঠে। বিকালে দাউদকান্দির ব্যারিষ্টার মারুফ হোসেন বিশাল মিছিল নিয়ে মাঠে ঢোকেন। বাবা ড. মোশাররফ হোসেন মাঠে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে নেতা-কর্মীদের উৎসাহ দেন। উপস্থিত অন্যান্যরা বাপ-বেটার এ রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বেশ উপভোগ করেন। বেশ নেতাদের কর্মী- সমর্থকরাই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে মাঠ ঘুড়ে গেছেন। নানা সাজে, বর্ণিল আয়োজনে।
পরিবহন ধর্মঘট না থাকলেও কেন আগের দিন আসতে হলো। এটাই নির্দেশ ছিল। কি হবে কেউ জানতো না। আগের সমাবেশগুলোয় বাঁধা দেয়ায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয় নি। এরপর আছে জায়গা না পাওয়ার উদ্বিগ্নতা। থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা পৃথক পৃথকভাবে করা হয়েছে। দুপুরে রান্না করা প্যাকেট খাবার, রাতেও রান্না খাবারের ব্যবস্থা। শনিবার সকালের নাস্তা,দুপুরের খাবার- এভাবেই সাংগঠনিক আয়োজন হয়েছে। বেশ শৃঙ্খলা ছিল সবকিছুতে। গত এক মাসের দফায় দফায় সভা- পূর্ব প্রস্তুতিতে বেশ গোছানো হয়েছে। রাতে দলের শিল্পীরা সংগীত পরিবেশ করেন মাঠে। গভীর রাত পর্যন্ত মাঠ পুরো ছিল। অনেকে মাঠেই থেকে গেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে বড় পর্দায় ফুটবল বিশ্বকাপ ব্রাজিলের খেলা দেখার আয়োজনও ছিল। দলীয় ডাক্তাররা সমাবেশে স্বাস্থ্য সেবা দিতে ক্যাম্প স্থাপন করেছেন। শুক্রবার তারাও মাঠে ছিলেন।
জটিলতা এরিয়ে মঞ্চ তৈরি শুরু হয় বৃহস্পতিবার রাত ৯ টা থেকে। শুক্রবার রাতে কাজ শেষ হয়। মঞ্চ আরেকটু উঁচু হলে বাইরে সড়কে দাঁড়ানোরা সহজে নেতাদের দেখতে পেতেন, আরও ভালো হতো। মাইক লাগানোর কাজ শেষ পর্যায়ে। সড়কে বেশি দূরে মাইক লাগানোর ক্ষেত্রে পুলিশী নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মাঠ ভরে গিয়ে মানুষের ঢল সড়কেই বেশি থাকবে। তাই রাস্তায় পর্যাপ্ত মাইক লাগানো হয়েছে। পুলিশ বাঁধা দেয় নি। সংখ্যা কম হলেও রাতে নিরাপত্তায় সড়কে পুলিশ পাহাড়া দিয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে টাউন হল মাঠে শেষ হয় বই ও সাহিত্য মেলা। এক সপ্তাহ আগে সরঞ্জাম আনা হলেও মাঠেই পরে ছিল। মেলা শেষে তাড়াহুড়ো করে মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়। রাতভর চলে কাজ। বৃহস্পতিবার রাতে ওই মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকার দলীয় স্থানীয় সাংসদ আকম বাহাউদ্দীন বাহারের গণমাধ্যমে আসা ভাষ্য, খালি মাঠ দিয়ে দিলাম। কেউ অশান্তি করার চেষ্টা করবেন না। গণতান্ত্রিক ভাবে সমাবেশ করুন। গণতান্ত্রিক বক্তব্য দেন। কে কত বেশি পোষ্টার লাগাতে পারেন, লাগাতে থাকেন। তাতেও আমাদের কোন সমস্যা নেই। খালি অশান্তি তৈরি করবেন না।
এদিকে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ থেকে হকাররাও এসেছেন। ধানের শীষ, জিয়া- খালেদা- তারেকের ছবির কোর্ট পিন বিক্রি করছেন দরাদরিতে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। একজনের তিন হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে। তারা সমাবেশে ঘুড়ে ঘুড়ে এসব বিক্রি করেন। অবশ্য পরিয়ে দিয়ে খুশি করিয়ে যার থেকে যা পারছেন তাই আদায় করছেন। এটাই তাদের এখনকার জীবিকা।
রাত পেরুলেই শনিবার। দুপুর ২ টায় সমাবেশের শুরু। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। এখন পর্যন্ত সবই শান্তিপূর্ণ। কুমিল্লা সমাবেশ, সরকার বিরোধী চলমান আন্দোলন রাজনীতিতে সহাবস্থান তৈরীর নজির স্থাপন করতে যাচ্ছে। এভাবে চললে সমাবেশও শান্তিপূর্ণ ভাবেই শেষ হবে, এমনটাই প্রত্যাশা।
লেখকঃ সাংবাদিক। (সূত্র-ফেইসবুক /আইডি- মাসুক আলতাফ চৌধুরী)

শেয়ার করুন
এই ধরনের আরও খবর...
themesba-lates1749691102