বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

বরিশাল

ভাণ্ডারিয়ায় ৭ বছর ধরে আইসিটি ল্যাব বন্ধ, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া রাজপাশা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ সাত বছর ধরে বন্ধ রয়েছে আইসিটি বিভাগের যাবতীয় কার্যক্রম। ফলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং বিজ্ঞান বিষয়ের পাঠদান ও ব্যবহারিক শিক্ষা থেকে মারাত্মকভাবে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হচ্ছে লাখ লাখ টাকার সরকারি সম্পদ।বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির আইসিটি বিভাগের সহকারী শিক্ষক মো. কে এম জামাল হায়দার দীর্ঘদিন ধরে কোনো ব্যবহারিক ক্লাস নেন না। বিষয়ভিত্তিক পর্যাপ্ত দক্ষতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি পদে বহাল রয়েছেন। এছাড়া ২০১৯ সাল থেকে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারালে ম্যাগনিফাইং গ্লাস ব্যবহার করে কোনোমতে কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তার সুস্থতার বিষয়ে পর্ষদের রেজুল্যুশন থাকলেও তিনি এখনও সুস্থ হতে পারেননি।এমতাবস্থায় ল্যাবের কাজ চালাতে ২০২৪ সালে হৃদয় হাওলাদার নামে একজনকে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে কম্পিউটারে দক্ষতা না থাকায় তিনি নিজ থেকেই বিদ্যালয় ছেড়ে চলে যান। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় সুমনা আক্তার নামে অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও তিনিও এ বিষয়ে অনভিজ্ঞ। ফলে চরম শিক্ষকসংকটে অচল হয়ে রয়েছে পুরো আইসিটি বিভাগ।অন্য দিকে, ২০১৯ সালে সরকারিভাবে পাওয়া ল্যাবের ১৭টি ল্যাপটপ দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সঠিক তদারকি ও ব্যবহারের অভাবে লাখ লাখ টাকার এ সম্পদ এখন অকেজো হতে বসেছে।শিক্ষার্থীদের পক্ষে দশম শ্রেণির ছাত্র মো. সালেউর রহমান আক্ষেপ করে বলে, "আমাদের আইসিটি ল্যাবে কোনো দক্ষ শিক্ষক নেই। কয়েক বছর ধরে ল্যাবটি পুরোপুরি তালাবদ্ধ। ল্যাবের অধিকাংশ ল্যাপটপ নষ্ট হয়ে গেছে, আমরা কোনো ব্যবহারিক সুবিধাই পাচ্ছি না।"শিক্ষার ব্যাঘাত ঘটার কথা স্বীকার করে বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক নাজমুল হাসান জানান, মূল শিক্ষক দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর দুবার খণ্ডকালীন প্রশিক্ষক আনা হয়েছিল। কিন্তু তারা অনভিজ্ঞ হওয়ায় ল্যাবের অচলাবস্থা কাটেনি।এ বিষয়ে ধাওয়া রাজপাশা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান বলেন, "আইসিটি শিক্ষক অসুস্থ হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর থেকেই সংকট তৈরি হয়। পরবর্তীতে নিয়োগপ্রাপ্ত খণ্ডকালীন শিক্ষকরা অনভিজ্ঞ হওয়ায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উক্ত শিক্ষককে শারীরিক ফিটনেস সনদ জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।"বিষয়টি নিয়ে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বিদ্যালয়টির আইসিটি ল্যাব বন্ধ থাকা নিয়ে এখনও লিখিত অভিযোগ পাননি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভাণ্ডারিয়ায় ৭ বছর ধরে আইসিটি ল্যাব বন্ধ, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা