বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয়

সেন্টমার্টিনে পর্যটনের সময়সীমা, সংখ্যা ও জাহাজ ছাড়ার স্থান পুনর্বিবেচনা করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী

সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটনের সময়সীমা, দৈনিক পর্যটক সংখ্যা এবং পর্যটকবাহী জাহাজ ছাড়ার স্থান পুনর্বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দ্বীপের নাজুক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা এবং সুশৃঙ্খল যাতায়াত ব্যবস্থাপনা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।মন্ত্রী বলেন, “সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রেখে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। দ্বীপের ধারণক্ষমতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা এবং সামুদ্রিক প্রতিবেশের ওপর পর্যটনের প্রভাব বিবেচনায় এনেই পর্যটন ব্যবস্থাপনা অধিকতর পর্যালোচনা করা হচ্ছে।”সভায় ২০২৬–২০২৭ পর্যটন মৌসুমে সেন্টমার্টিনে পর্যটক গমন ও অবস্থান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সাথে বিদ্যমান ২২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখের প্রজ্ঞাপনের বিধানসমূহ পর্যালোচনা করা হয়। উক্ত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নভেম্বর মাসে রাত্রিযাপন ছাড়া শুধু দিনে ভ্রমণ, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাত্রিযাপনের সুযোগ, দৈনিক গড়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার পর্যটক গমন এবং ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নিয়ম রয়েছে। এসব নিয়মাবলী পুনর্বিবেচনা করে নতুন নির্দেশনা জারি করা হবে।সভায় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম ভ্রমণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড স্বীকৃত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডসংবলিত টিকিট ক্রয়ের ওপর জোর দেন। একই সাথে তিনি দ্বীপে নিষিদ্ধ পলিথিন বহন বন্ধ, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিরুৎসাহিত করা এবং পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।তবে সামুদ্রিক কাছিম, প্রবাল ও পাখি সুরক্ষায় সৈকতে রাতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ পার্টি করা, কেয়া বনে প্রবেশ কিংবা ফল সংগ্রহ এবং সৈকতে মোটরসাইকেল চালানোর ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাগুলো যথারীতি বলবৎ থাকবে।আন্তঃমন্ত্রণালয় এ সভায় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম, মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মোঃ শফিউল বারীসহ বিভিন্ন বিভাগ, সংস্থা, পর্যটন ব্যবসায়ী ও পরিবেশ সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সেন্টমার্টিনে পর্যটনের সময়সীমা, সংখ্যা ও জাহাজ ছাড়ার স্থান পুনর্বিবেচনা করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী