বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

৪৬ বছর পর ফিরছে গ্রাম সরকার, যা আছে খসড়ায়


প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম

৪৬ বছর পর ফিরছে গ্রাম সরকার, যা আছে খসড়ায়

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৮০ সালে চালু হয়েছিল ‘স্বনির্ভর গ্রাম সরকার’। বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন ও বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে যাওয়া এই ব্যবস্থা আবারও ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার। ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে ১৭ সদস্যের গ্রাম সরকার গঠনের প্রস্তাব রেখে ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে ৪৬ বছর পর নতুন কাঠামোয় ফিরবে গ্রাম সরকারব্যবস্থা।

২০০৩ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার নতুন করে গ্রাম সরকার আইন করলেও তা বাস্তবায়নের আগেই ২০০৯ সালে আইনটি বাতিল করা হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবারও এ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলো। তবে ইউনিয়ন পরিষদ ও ওয়ার্ড সভা থাকার পরও নতুন এই সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা, জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর সম্ভাবনা এবং দায়িত্বের পুনরাবৃত্তি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আইনের খসড়ার ওপর জনসাধারণের মতামত চাওয়া হয়েছে। ফলে গ্রাম সরকার গঠন, সদস্য নির্বাচন ও কার্যক্রমসংক্রান্ত বিধানগুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

প্রতি গ্রাম সরকারে থাকবেন ১৭ জন

খসড়া অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রাম সরকারে একজন প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৫ জন সদস্য থাকবেন। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য হবেন গ্রাম সরকারের প্রধান। সংরক্ষিত আসনের নারী ইউপি সদস্য তার নির্বাচনি এলাকার গ্রাম সরকারগুলোর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রথম সভা থেকে গ্রাম সরকারের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।

১৫ সদস্যের মধ্যে থাকবেন দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তি বা সমাজসেবক, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একজন পুরুষ ও একজন নারী সদস্য এবং দুজন কৃষক। এ ছাড়া একজন করে নিকাহ রেজিস্ট্রার, সমবায় সমিতির সদস্য, পল্লিচিকিৎসক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শ্রমিক ও যুব প্রতিনিধি রাখার প্রস্তাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস থাকলে তাদের একজন প্রতিনিধিও অন্তর্ভুক্ত হবেন। কোনো শ্রেণির প্রতিনিধি পাওয়া না গেলে গণ্যমান্য ব্যক্তি বা সমাজসেবকের সংখ্যা বাড়িয়ে শূন্যস্থান পূরণ করা হবে।

সদস্য নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় থাকা অন্তত ১০ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতিতে হ্যাঁ-না ভোটের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হবে। খসড়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটিকে পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে গ্রাম সরকারের দায়িত্বের পরিধি রাখা হয়েছে বিস্তৃত। গ্রামের রাস্তাঘাট ও কালভার্ট উন্নয়নে অগ্রাধিকারভিত্তিক পরিকল্পনা তৈরি, চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি ও আর্থিক বিষয় পর্যালোচনা এবং সরকারি সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে প্রতিষ্ঠানটি।

নারী ও শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাস, চুরি, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি স্থানীয় বিরোধ মীমাংসায় উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে গ্রাম সরকারকে।

শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পরিবার পরিকল্পনা, পুষ্টি, টিকাদান, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন কার্যক্রমে সহযোগিতা করবে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি কৃষি উপকরণের সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সংকটের তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং সমবায়, কুটিরশিল্প, মৎস্যচাষ, পশুপালন, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে মানুষকে উৎসাহিত করার প্রস্তাব রয়েছে।

দুই মাসে একটি সভা, থাকবে পৃথক তহবিল

খসড়ায় প্রতি দুই মাসে অন্তত একটি সভা এবং প্রতি ছয় মাসে একটি সাধারণ সভা আয়োজনের বিধান রাখা হয়েছে। সাধারণ সভায় ওয়ার্ডের অন্তত ১০ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতি প্রয়োজন হবে। কার্যক্রম পরিচালনায় বিষয়ভিত্তিক কমিটি এবং প্রয়োজনে উপকমিটি গঠনের সুযোগও থাকবে।

গ্রাম সরকারের জন্য পৃথক তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ ও অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া অর্থ ওই তহবিলে জমা হবে। দাপ্তরিক উপকরণ কেনার ব্যয় নির্বাহে ইউনিয়ন পরিষদ নিজস্ব আয়ের একটি অংশ দেবে। গ্রাম সরকারের কার্যক্রম পরিদর্শন ও তদন্তের বিধানও রাখা হয়েছে।

দায়িত্বে ব্যর্থ হলে বাতিল করতে পারবেন ডিসি

প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনে ধারাবাহিক ব্যর্থতা, প্রশাসনিক বা আর্থিক অক্ষমতা, জনস্বার্থবিরোধী কার্যক্রম কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে জেলা প্রশাসক গ্রাম সরকার বাতিল করতে পারবেন। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট গ্রাম সরকারকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে।

আইনের খসড়াটি এখনো প্রস্তাবিত পর্যায়ে রয়েছে। জনসাধারণের মতামত গ্রহণের পর এর বিভিন্ন বিধান চূড়ান্ত হবে। নতুন এই কাঠামো বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় উন্নয়ন, সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় গ্রাম সরকারের ভূমিকা কী হবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত আইন ও এর বাস্তব প্রয়োগের ওপর।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

অক্সফোর্ড থেকে কোনো সংশোধন ছাড়াই পিএইচডি অর্জন করলেন সানজানা চৌধুরী

অক্সফোর্ড থেকে কোনো সংশোধন ছাড়াই পিএইচডি অর্জন করলেন সানজানা চৌধুরী

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

দেবীদ্বারে মুরগীর ফার্মে যুবদল নেতাসহ ৩ যুবককে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক

দেবীদ্বারে মুরগীর ফার্মে যুবদল নেতাসহ ৩ যুবককে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

প্রত্যন্ত অঞ্চলের বঞ্চিতদের মূলধারায় আনতে চান প্রধানমন্ত্রী: পর্যটনমন্ত্রী

প্রত্যন্ত অঞ্চলের বঞ্চিতদের মূলধারায় আনতে চান প্রধানমন্ত্রী: পর্যটনমন্ত্রী

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা শিরোপা চ্যাম্পিয়ন খন্ডকাটা একাদশ

আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা শিরোপা চ্যাম্পিয়ন খন্ডকাটা একাদশ

ডিসেম্বরে শক্তিশালী ‘এল নিনো’র আশঙ্কা: বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার সতর্কবার্তা

ডিসেম্বরে শক্তিশালী ‘এল নিনো’র আশঙ্কা: বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার সতর্কবার্তা

গাইবান্ধার ১ নম্বর ট্রাফিক মোড়ে ১০ টাকার চিতই পিঠা, ভর্তার স্বাদে জমজমাট আড্ডা

গাইবান্ধার ১ নম্বর ট্রাফিক মোড়ে ১০ টাকার চিতই পিঠা, ভর্তার স্বাদে জমজমাট আড্ডা

মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে হামলা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ আহত ৭

মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে হামলা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ আহত ৭

স্ত্রী থাকতে শ্যালিকাকে বিয়ে, টিকটকারের মুখে চুনকালি-জুতার মালা

স্ত্রী থাকতে শ্যালিকাকে বিয়ে, টিকটকারের মুখে চুনকালি-জুতার মালা

প্রভাতী ট্রেনের অভাবে পদ্মা রেলসেতুর সুবিধাবঞ্চিত যশোর অঞ্চলের মানুষ

প্রভাতী ট্রেনের অভাবে পদ্মা রেলসেতুর সুবিধাবঞ্চিত যশোর অঞ্চলের মানুষ

৪৬ বছর পর ফিরছে গ্রাম সরকার, যা আছে খসড়ায়

৪৬ বছর পর ফিরছে গ্রাম সরকার, যা আছে খসড়ায়

হামলা বন্ধে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দিচ্ছে সৌদি আরব, মধ্যস্থতায় ইরান!

হামলা বন্ধে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দিচ্ছে সৌদি আরব, মধ্যস্থতায় ইরান!

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত

কুমিল্লায় রঙের গোটা দিয়ে দধি তৈরি ও অতিরিক্ত দামে ফল বিক্রি: ৪ প্রতিষ্ঠানকে ২৯ হাজার টাকা জরিমানা

কুমিল্লায় রঙের গোটা দিয়ে দধি তৈরি ও অতিরিক্ত দামে ফল বিক্রি: ৪ প্রতিষ্ঠানকে ২৯ হাজার টাকা জরিমানা

লোকালয়ে পায়ের ছাপ, ড্রোন উড়িয়ে বাঘ খুঁজছেন বনরক্ষীরা

লোকালয়ে পায়ের ছাপ, ড্রোন উড়িয়ে বাঘ খুঁজছেন বনরক্ষীরা

পুশইন করতে চায় বিএসএফ, কড়া পাহারায় বিজিবি

পুশইন করতে চায় বিএসএফ, কড়া পাহারায় বিজিবি

Bengal Times

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


৪৬ বছর পর ফিরছে গ্রাম সরকার, যা আছে খসড়ায়

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৮০ সালে চালু হয়েছিল ‘স্বনির্ভর গ্রাম সরকার’। বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন ও বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে যাওয়া এই ব্যবস্থা আবারও ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার। ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে ১৭ সদস্যের গ্রাম সরকার গঠনের প্রস্তাব রেখে ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে ৪৬ বছর পর নতুন কাঠামোয় ফিরবে গ্রাম সরকারব্যবস্থা।

২০০৩ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার নতুন করে গ্রাম সরকার আইন করলেও তা বাস্তবায়নের আগেই ২০০৯ সালে আইনটি বাতিল করা হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবারও এ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলো। তবে ইউনিয়ন পরিষদ ও ওয়ার্ড সভা থাকার পরও নতুন এই সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা, জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর সম্ভাবনা এবং দায়িত্বের পুনরাবৃত্তি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আইনের খসড়ার ওপর জনসাধারণের মতামত চাওয়া হয়েছে। ফলে গ্রাম সরকার গঠন, সদস্য নির্বাচন ও কার্যক্রমসংক্রান্ত বিধানগুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

প্রতি গ্রাম সরকারে থাকবেন ১৭ জন

খসড়া অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রাম সরকারে একজন প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৫ জন সদস্য থাকবেন। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য হবেন গ্রাম সরকারের প্রধান। সংরক্ষিত আসনের নারী ইউপি সদস্য তার নির্বাচনি এলাকার গ্রাম সরকারগুলোর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রথম সভা থেকে গ্রাম সরকারের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।

১৫ সদস্যের মধ্যে থাকবেন দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তি বা সমাজসেবক, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একজন পুরুষ ও একজন নারী সদস্য এবং দুজন কৃষক। এ ছাড়া একজন করে নিকাহ রেজিস্ট্রার, সমবায় সমিতির সদস্য, পল্লিচিকিৎসক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শ্রমিক ও যুব প্রতিনিধি রাখার প্রস্তাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস থাকলে তাদের একজন প্রতিনিধিও অন্তর্ভুক্ত হবেন। কোনো শ্রেণির প্রতিনিধি পাওয়া না গেলে গণ্যমান্য ব্যক্তি বা সমাজসেবকের সংখ্যা বাড়িয়ে শূন্যস্থান পূরণ করা হবে।

সদস্য নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় থাকা অন্তত ১০ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতিতে হ্যাঁ-না ভোটের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হবে। খসড়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটিকে পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে গ্রাম সরকারের দায়িত্বের পরিধি রাখা হয়েছে বিস্তৃত। গ্রামের রাস্তাঘাট ও কালভার্ট উন্নয়নে অগ্রাধিকারভিত্তিক পরিকল্পনা তৈরি, চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি ও আর্থিক বিষয় পর্যালোচনা এবং সরকারি সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে প্রতিষ্ঠানটি।

নারী ও শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাস, চুরি, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি স্থানীয় বিরোধ মীমাংসায় উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে গ্রাম সরকারকে।

শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পরিবার পরিকল্পনা, পুষ্টি, টিকাদান, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন কার্যক্রমে সহযোগিতা করবে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি কৃষি উপকরণের সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সংকটের তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং সমবায়, কুটিরশিল্প, মৎস্যচাষ, পশুপালন, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে মানুষকে উৎসাহিত করার প্রস্তাব রয়েছে।

দুই মাসে একটি সভা, থাকবে পৃথক তহবিল

খসড়ায় প্রতি দুই মাসে অন্তত একটি সভা এবং প্রতি ছয় মাসে একটি সাধারণ সভা আয়োজনের বিধান রাখা হয়েছে। সাধারণ সভায় ওয়ার্ডের অন্তত ১০ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতি প্রয়োজন হবে। কার্যক্রম পরিচালনায় বিষয়ভিত্তিক কমিটি এবং প্রয়োজনে উপকমিটি গঠনের সুযোগও থাকবে।

গ্রাম সরকারের জন্য পৃথক তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ ও অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া অর্থ ওই তহবিলে জমা হবে। দাপ্তরিক উপকরণ কেনার ব্যয় নির্বাহে ইউনিয়ন পরিষদ নিজস্ব আয়ের একটি অংশ দেবে। গ্রাম সরকারের কার্যক্রম পরিদর্শন ও তদন্তের বিধানও রাখা হয়েছে।

দায়িত্বে ব্যর্থ হলে বাতিল করতে পারবেন ডিসি

প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনে ধারাবাহিক ব্যর্থতা, প্রশাসনিক বা আর্থিক অক্ষমতা, জনস্বার্থবিরোধী কার্যক্রম কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে জেলা প্রশাসক গ্রাম সরকার বাতিল করতে পারবেন। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট গ্রাম সরকারকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে।

আইনের খসড়াটি এখনো প্রস্তাবিত পর্যায়ে রয়েছে। জনসাধারণের মতামত গ্রহণের পর এর বিভিন্ন বিধান চূড়ান্ত হবে। নতুন এই কাঠামো বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় উন্নয়ন, সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় গ্রাম সরকারের ভূমিকা কী হবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত আইন ও এর বাস্তব প্রয়োগের ওপর।


Bengal Times

Publisher: Bengaltimes LLC, USA.
Editor: Masud Alam Chowdhury

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
৪৬ বছর পর ফিরছে গ্রাম সরকার, যা আছে খসড়ায়
0:00 / 0:00
1x