মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি ও লাইসেন্সকৃত অস্ত্র বহনের প্রেক্ষাপট নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর বিবৃতিঃ


প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৪ এএম

গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি ও লাইসেন্সকৃত অস্ত্র বহনের প্রেক্ষাপট নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর বিবৃতিঃ

ঢাকা: গত ১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং আত্মরক্ষার্থে ব্যক্তিগত লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর সংবাদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, এমপি।

১৮ অক্টোবর এক বিবৃতিতে তিনি জানান, একটি স্পর্শকাতর ঘটনার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্যকে কেন্দ্র করে প্রচারিত ভিডিও, ফটোকার্ড ও খণ্ডিত শিরোনাম সামগ্রিক প্রেক্ষাপটকে মূল্যায়ন করে না।

যার ফলে মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর ভূমিকা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনমনে পরিকল্পিত বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

মাদক পরিস্থিতি ও পূর্ববর্তী দাপ্তরিক উদ্যোগ:

মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় অধিবাসীদের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়ে আসছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে এই জনপদটি মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়। গত জুন মাসে মাদক-সংক্রান্ত এক সহিংসতায় ৩ জন নিরীহ নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি সরজমিনে পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে একাধিক সমন্বয় সভা করেন।

জনবলসংকট দূরীকরণ এবং মাদকের আস্তানা সংলগ্ন স্থানে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট থানাকে আধাসরকারি পত্র (DO Letter) প্রদান করলেও তা এখনো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি স্পষ্ট করেন, সর্বশেষ পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে একটি সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তিনি গতকাল উক্ত এলাকায় যান।

আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র প্রদর্শনের সুনির্দিষ্ট কারণ:

ঘটনাস্থলে গমনাগমনের পূর্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্রে মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর নিরাপত্তাঝুঁকি এবং মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে ছাদ থেকে আকস্মিক গুলিবর্ষণের আশঙ্কার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী আস্তানার নিকট পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী ব্যক্তি অতর্কিতে হইচই করে আমাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে ধেয়ে আসে।

এমতাবস্থায় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি এবং আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি। সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নস্যাৎ হওয়ার পরপরই অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয়। উক্ত আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং এর প্রদর্শনী কেবলই আত্মরক্ষার স্বার্থে আইনি কাঠামোর মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।”

পুলিশের উপস্থিতিতে যৌথ অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা:

ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর অনতিবিলম্বে গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে ও সহায়তায় সন্দেহভাজন আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় ৪-৫টি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়। আস্তানাগুলো থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, বেশ কিছু দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।উক্ত অপরাধের সাথে হাতেনাতে জড়িত ৬ জন মাদক কারবারিকে আটক করে জব্দকৃত আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়েছে।

গণমাধ্যমের খণ্ডিত উপস্থাপনা ও বস্তুনিষ্ঠতার আহ্বান:

মাননীয় প্রতিমন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “দূর্ভাগ্যজনকভাবে প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক কালবেলাসহ মুষ্টিমেয় কয়েকটি গণমাধ্যম অতিউৎসাহী হয়ে খণ্ডিত তথ্য ও ফটোকার্ডের মাধ্যমে অপতথ্য ও বিকৃত সংবাদ পরিবেশন করেছে।

বিকৃত, মিথ্যা এবং সম্পূর্ণ বানোয়াট এসব সংবাদ মূলত অভিযানের সাফল্য, পুলিশের ভূমিকা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং ৬ জন অপরাধী আটকের ইতিবাচক দিকটি সুপরিকল্পিতভাবে সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছে। এর মাধ্যমে তারা সরকার ও জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা কেবল ‘অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রীর অভিযান’—এই খণ্ডিত দৃশ্যটিকে চটকদার শিরোনামে প্রচার করেছে, যা স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিপন্থী।”মাননীয় প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমসমূহকে যেকোনো সংবাদের সত্যতা যাচাইপূর্বক পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপটসহ তা প্রকাশের আহ্বান জানান।

মাদক নির্মূলে দৃঢ় প্রত্যয়:

মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, “মাদকের আস্তানা সম্পূর্ণরূপে উপড়ে ফেলা এবং ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করা জনগণের নিকট আমার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। একটি ঘটনাকে খণ্ডিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচারের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সামাজিক আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে না।” জনস্বার্থে এই অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

অক্সফোর্ড থেকে কোনো সংশোধন ছাড়াই পিএইচডি অর্জন করলেন সানজানা চৌধুরী

অক্সফোর্ড থেকে কোনো সংশোধন ছাড়াই পিএইচডি অর্জন করলেন সানজানা চৌধুরী

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

দেবীদ্বারে মুরগীর ফার্মে যুবদল নেতাসহ ৩ যুবককে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক

দেবীদ্বারে মুরগীর ফার্মে যুবদল নেতাসহ ৩ যুবককে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

প্রত্যন্ত অঞ্চলের বঞ্চিতদের মূলধারায় আনতে চান প্রধানমন্ত্রী: পর্যটনমন্ত্রী

প্রত্যন্ত অঞ্চলের বঞ্চিতদের মূলধারায় আনতে চান প্রধানমন্ত্রী: পর্যটনমন্ত্রী

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

ডিসেম্বরে শক্তিশালী ‘এল নিনো’র আশঙ্কা: বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার সতর্কবার্তা

ডিসেম্বরে শক্তিশালী ‘এল নিনো’র আশঙ্কা: বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার সতর্কবার্তা

আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা শিরোপা চ্যাম্পিয়ন খন্ডকাটা একাদশ

আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা শিরোপা চ্যাম্পিয়ন খন্ডকাটা একাদশ

শেষ রক্ষা হলো না শ্রফের ওপর ৩ হামলাকারীর, যেভাবে ধরা পড়লেন, কারা তারা

শেষ রক্ষা হলো না শ্রফের ওপর ৩ হামলাকারীর, যেভাবে ধরা পড়লেন, কারা তারা

দাঙ্গা-লুটপাটে বিপর্যস্ত ফ্রান্স, কারফিউ জারির পথে সরকার

দাঙ্গা-লুটপাটে বিপর্যস্ত ফ্রান্স, কারফিউ জারির পথে সরকার

‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে স্পেসএক্সের শেয়ার উপহার দেওয়া হবে’

‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে স্পেসএক্সের শেয়ার উপহার দেওয়া হবে’

নিউ ইয়র্কে আসালের ১৯তম বার্ষিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত: শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষার আহ্বান

নিউ ইয়র্কে আসালের ১৯তম বার্ষিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত: শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষার আহ্বান

বাঙ্গালহালিয়া যুব সমাজ উদ্যোগের মারমা ওয়াগ্যাই উপলক্ষে এক প্রীতি ফুটবল খেলা  উদ্বোধন

বাঙ্গালহালিয়া যুব সমাজ উদ্যোগের মারমা ওয়াগ্যাই উপলক্ষে এক প্রীতি ফুটবল খেলা উদ্বোধন

রাজস্থলীতে  ফ্যামিলি কার্ডের তথ্যসংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন: অনিয়ম ও অর্থ আদায় সর্তক ইউএনও ইউসুফ হাসান

রাজস্থলীতে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্যসংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন: অনিয়ম ও অর্থ আদায় সর্তক ইউএনও ইউসুফ হাসান

দোয়ারাবাজারে মাদকের বিরুদ্ধে  সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম, অভিযুক্ত আটক

দোয়ারাবাজারে মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম, অভিযুক্ত আটক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মাদক চালানের অভিযোগ নাছির উদ্দিন পাটোয়ারীর; ইশরাক 'বলির পাঠা'

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মাদক চালানের অভিযোগ নাছির উদ্দিন পাটোয়ারীর; ইশরাক 'বলির পাঠা'

অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নিয়ে সৃষ্ট ভুল ব্যাখ্যা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ইশরাকের ক্ষোভ ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা

অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নিয়ে সৃষ্ট ভুল ব্যাখ্যা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ইশরাকের ক্ষোভ ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা

কুড়িগ্রামে সদর হাসপাতালে ৪ মাস বেতনহীন ৪৭ কর্মচারী

কুড়িগ্রামে সদর হাসপাতালে ৪ মাস বেতনহীন ৪৭ কর্মচারী

Bengal Times

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি ও লাইসেন্সকৃত অস্ত্র বহনের প্রেক্ষাপট নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর বিবৃতিঃ

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ঢাকা: গত ১৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং আত্মরক্ষার্থে ব্যক্তিগত লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর সংবাদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, এমপি।

১৮ অক্টোবর এক বিবৃতিতে তিনি জানান, একটি স্পর্শকাতর ঘটনার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্যকে কেন্দ্র করে প্রচারিত ভিডিও, ফটোকার্ড ও খণ্ডিত শিরোনাম সামগ্রিক প্রেক্ষাপটকে মূল্যায়ন করে না।

যার ফলে মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর ভূমিকা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনমনে পরিকল্পিত বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

মাদক পরিস্থিতি ও পূর্ববর্তী দাপ্তরিক উদ্যোগ:

মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় অধিবাসীদের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়ে আসছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে এই জনপদটি মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়। গত জুন মাসে মাদক-সংক্রান্ত এক সহিংসতায় ৩ জন নিরীহ নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি সরজমিনে পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে একাধিক সমন্বয় সভা করেন।

জনবলসংকট দূরীকরণ এবং মাদকের আস্তানা সংলগ্ন স্থানে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট থানাকে আধাসরকারি পত্র (DO Letter) প্রদান করলেও তা এখনো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি স্পষ্ট করেন, সর্বশেষ পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে একটি সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তিনি গতকাল উক্ত এলাকায় যান।

আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র প্রদর্শনের সুনির্দিষ্ট কারণ:

ঘটনাস্থলে গমনাগমনের পূর্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্রে মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর নিরাপত্তাঝুঁকি এবং মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে ছাদ থেকে আকস্মিক গুলিবর্ষণের আশঙ্কার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী আস্তানার নিকট পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী ব্যক্তি অতর্কিতে হইচই করে আমাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে ধেয়ে আসে।

এমতাবস্থায় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি এবং আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি। সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নস্যাৎ হওয়ার পরপরই অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয়। উক্ত আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং এর প্রদর্শনী কেবলই আত্মরক্ষার স্বার্থে আইনি কাঠামোর মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।”

পুলিশের উপস্থিতিতে যৌথ অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা:

ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর অনতিবিলম্বে গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে ও সহায়তায় সন্দেহভাজন আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় ৪-৫টি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়। আস্তানাগুলো থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, বেশ কিছু দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।উক্ত অপরাধের সাথে হাতেনাতে জড়িত ৬ জন মাদক কারবারিকে আটক করে জব্দকৃত আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়েছে।

গণমাধ্যমের খণ্ডিত উপস্থাপনা ও বস্তুনিষ্ঠতার আহ্বান:

মাননীয় প্রতিমন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “দূর্ভাগ্যজনকভাবে প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক কালবেলাসহ মুষ্টিমেয় কয়েকটি গণমাধ্যম অতিউৎসাহী হয়ে খণ্ডিত তথ্য ও ফটোকার্ডের মাধ্যমে অপতথ্য ও বিকৃত সংবাদ পরিবেশন করেছে।

বিকৃত, মিথ্যা এবং সম্পূর্ণ বানোয়াট এসব সংবাদ মূলত অভিযানের সাফল্য, পুলিশের ভূমিকা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং ৬ জন অপরাধী আটকের ইতিবাচক দিকটি সুপরিকল্পিতভাবে সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছে। এর মাধ্যমে তারা সরকার ও জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা কেবল ‘অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রীর অভিযান’—এই খণ্ডিত দৃশ্যটিকে চটকদার শিরোনামে প্রচার করেছে, যা স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিপন্থী।”মাননীয় প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমসমূহকে যেকোনো সংবাদের সত্যতা যাচাইপূর্বক পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপটসহ তা প্রকাশের আহ্বান জানান।

মাদক নির্মূলে দৃঢ় প্রত্যয়:

মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, “মাদকের আস্তানা সম্পূর্ণরূপে উপড়ে ফেলা এবং ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করা জনগণের নিকট আমার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। একটি ঘটনাকে খণ্ডিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচারের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সামাজিক আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে না।” জনস্বার্থে এই অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


Bengal Times

Publisher: Bengaltimes LLC, USA.
Editor: Masud Alam Chowdhury

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি ও লাইসেন্সকৃত অস্ত্র বহনের প্রেক্ষাপট নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর বিবৃতিঃ
0:00 / 0:00
1x