বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তার তীব্র ভাঙনে আতঙ্কে স্থানীয়রা


সাইফুর রহমান শামীম
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তার তীব্র ভাঙনে আতঙ্কে  স্থানীয়রা

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা থেকে চিলমারীর বজরা পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটারজুড়ে তিস্তা নদী প্রবাহিত হয়েছে। এর প্রায় ২০ কিলোমিটারই ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। উজানে ভারী বৃষ্টি কিংবা ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের পানি ছেড়ে দিলে ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজের গেট খুলে দেওয়া হয়। এতে কুড়িগ্রাম অংশে পানির চাপ বাড়ে। তলদেশে পলি-বালু জমে নাব্য কমে যাওয়ায় পানি বাড়লে তীব্র স্রোত তৈরি হয়, আর সেই স্রোতে ভাঙে নদীর পাড়। জানা গেছে, ২০১৯ সালে কুড়িগ্রাম পাউবো তিস্তায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার খনন, বাঁধ সংস্কার ও সিসি ব্লক দিয়ে তীর প্রতিরক্ষার একটি প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করেছিল। সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। পরে তিস্তা মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হলে প্রকল্পটি আর এগোয়নি। এর আগে, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজারহাটের বুড়িরহাট এলাকায় জিও ব্যাগ ধসে একটি ক্রস বাঁধের প্রায় ৪০ মিটার অংশ ভেঙে যায়। এতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ নতুন করে ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছেন।

সম্প্রতি কথা হয় বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি মৌজার ৬৮ বছরের বৃদ্ধ আকবর আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, বাবার পাঁচ বিঘা জমি ছিল। তিস্তার ভাঙনে সবই হারিয়েছি। এখন অন্যের জমিতে ঘর তুলে থাকি। এ বয়সে বাড়ি ভেঙেছে ১২ বার। নিজের জমি নাই। অন্যের জমিতে বাড়ি করে বাস করি। আশায় আছি, মহাপরিকল্পনা হলে যদি কিছু জমি ফেরত পাই। একই এলাকার আয়েশা বেওয়া বলেন, তিস্তার ভাঙনে আটবার বাড়ি সরাতে হয়েছে। আমার জমিগুলো সব নদীতে গেছে। তিস্তা সব কেড়ে নিয়ে গেছে। ঘড়িয়ালডাঙ্গার চর খিতাবখাঁ গ্রামের রেণু বেগমও নদীভাঙনে বসতভিটা হারিয়েছেন। ৬০ বছর বয়সী এই নারী একসময় তিনবারের ইউপি সদস্য ছিলেন। এখন তীররক্ষা বাঁধে আট সদস্যের পরিবার নিয়ে থাকেন। নিজের নলকূপ নেই, দূর থেকে খাবার পানি আনেন, আর গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করেন নদীর পানি। রেণু বেগম বলেন, আগের তিস্তা আর নাই। এ তিস্তার বুকে চর আর পাড়ে ভাঙন আতঙ্ক। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, গত চার দশকে তিস্তায় বড় কোনো খনন প্রকল্প নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় তলদেশে বালু-পলি জমে নাব্য কমেছে। বর্ষায় পানি বাড়লে স্রোতের চাপ বাড়ে, আবার পানি কমলে বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর জেগে ওঠে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়ে ভাঙন বাড়ছে।


বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ২০০০ সাল থেকে তার ইউনিয়নের সাতটি মৌজার প্রায় দেড় হাজার পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেরি হলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী তীররক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, কুড়িগ্রামের তিস্তায় সাড়ে ১৪ কিলোমিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে। আপাতত স্থায়ী তীররক্ষা বা নদী খননের কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে নদীর দুই পাড় সুরক্ষিত করে ভাঙনের স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে।//

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

অক্সফোর্ড থেকে কোনো সংশোধন ছাড়াই পিএইচডি অর্জন করলেন সানজানা চৌধুরী

অক্সফোর্ড থেকে কোনো সংশোধন ছাড়াই পিএইচডি অর্জন করলেন সানজানা চৌধুরী

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

দেবীদ্বারে মুরগীর ফার্মে যুবদল নেতাসহ ৩ যুবককে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক

দেবীদ্বারে মুরগীর ফার্মে যুবদল নেতাসহ ৩ যুবককে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

প্রত্যন্ত অঞ্চলের বঞ্চিতদের মূলধারায় আনতে চান প্রধানমন্ত্রী: পর্যটনমন্ত্রী

প্রত্যন্ত অঞ্চলের বঞ্চিতদের মূলধারায় আনতে চান প্রধানমন্ত্রী: পর্যটনমন্ত্রী

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ মানসিকতা বন্ধের আহ্বান এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের

ডিসেম্বরে শক্তিশালী ‘এল নিনো’র আশঙ্কা: বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার সতর্কবার্তা

ডিসেম্বরে শক্তিশালী ‘এল নিনো’র আশঙ্কা: বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার সতর্কবার্তা

আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা শিরোপা চ্যাম্পিয়ন খন্ডকাটা একাদশ

আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা শিরোপা চ্যাম্পিয়ন খন্ডকাটা একাদশ

যুক্তরাজ্যে ‘গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি’র কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত

যুক্তরাজ্যে ‘গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি’র কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত

যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৬

যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৬

ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন  সহ সকল সনাতনী ধর্ম্বালম্বীদের দুর্গাপুজা  উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি নেতা আব্দুল গনি মিয়া

ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন সহ সকল সনাতনী ধর্ম্বালম্বীদের দুর্গাপুজা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি নেতা আব্দুল গনি মিয়া

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

ঢাকা থেকে সৌদিগামী ১০০ ফ্লাইট বাতিল

ঢাকা থেকে সৌদিগামী ১০০ ফ্লাইট বাতিল

ডেঙ্গু রোধে নাগরিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

ডেঙ্গু রোধে নাগরিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

শ্রীলংকান সেই যুবকের মৃত্যুদণ্ড বাতিল করল সৌদি আরব

শ্রীলংকান সেই যুবকের মৃত্যুদণ্ড বাতিল করল সৌদি আরব

আত্রাইয়ে দুই মোটরসাইকেল চোর আটক

আত্রাইয়ে দুই মোটরসাইকেল চোর আটক

ময়মনসিংহে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ৫০৪০পিস ইয়াবা সহ আন্ত:জেলা মাদক ব্যবসায়ী  গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ৫০৪০পিস ইয়াবা সহ আন্ত:জেলা মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

কুড়িগ্রাম সদরে ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু, ওসির নেতৃত্বে  ঘাতক আটক

কুড়িগ্রাম সদরে ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু, ওসির নেতৃত্বে ঘাতক আটক

Bengal Times

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তার তীব্র ভাঙনে আতঙ্কে স্থানীয়রা

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা থেকে চিলমারীর বজরা পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটারজুড়ে তিস্তা নদী প্রবাহিত হয়েছে। এর প্রায় ২০ কিলোমিটারই ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। উজানে ভারী বৃষ্টি কিংবা ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের পানি ছেড়ে দিলে ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজের গেট খুলে দেওয়া হয়। এতে কুড়িগ্রাম অংশে পানির চাপ বাড়ে। তলদেশে পলি-বালু জমে নাব্য কমে যাওয়ায় পানি বাড়লে তীব্র স্রোত তৈরি হয়, আর সেই স্রোতে ভাঙে নদীর পাড়। জানা গেছে, ২০১৯ সালে কুড়িগ্রাম পাউবো তিস্তায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার খনন, বাঁধ সংস্কার ও সিসি ব্লক দিয়ে তীর প্রতিরক্ষার একটি প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করেছিল। সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। পরে তিস্তা মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হলে প্রকল্পটি আর এগোয়নি। এর আগে, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজারহাটের বুড়িরহাট এলাকায় জিও ব্যাগ ধসে একটি ক্রস বাঁধের প্রায় ৪০ মিটার অংশ ভেঙে যায়। এতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ নতুন করে ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছেন।

সম্প্রতি কথা হয় বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি মৌজার ৬৮ বছরের বৃদ্ধ আকবর আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, বাবার পাঁচ বিঘা জমি ছিল। তিস্তার ভাঙনে সবই হারিয়েছি। এখন অন্যের জমিতে ঘর তুলে থাকি। এ বয়সে বাড়ি ভেঙেছে ১২ বার। নিজের জমি নাই। অন্যের জমিতে বাড়ি করে বাস করি। আশায় আছি, মহাপরিকল্পনা হলে যদি কিছু জমি ফেরত পাই। একই এলাকার আয়েশা বেওয়া বলেন, তিস্তার ভাঙনে আটবার বাড়ি সরাতে হয়েছে। আমার জমিগুলো সব নদীতে গেছে। তিস্তা সব কেড়ে নিয়ে গেছে। ঘড়িয়ালডাঙ্গার চর খিতাবখাঁ গ্রামের রেণু বেগমও নদীভাঙনে বসতভিটা হারিয়েছেন। ৬০ বছর বয়সী এই নারী একসময় তিনবারের ইউপি সদস্য ছিলেন। এখন তীররক্ষা বাঁধে আট সদস্যের পরিবার নিয়ে থাকেন। নিজের নলকূপ নেই, দূর থেকে খাবার পানি আনেন, আর গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করেন নদীর পানি। রেণু বেগম বলেন, আগের তিস্তা আর নাই। এ তিস্তার বুকে চর আর পাড়ে ভাঙন আতঙ্ক। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, গত চার দশকে তিস্তায় বড় কোনো খনন প্রকল্প নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় তলদেশে বালু-পলি জমে নাব্য কমেছে। বর্ষায় পানি বাড়লে স্রোতের চাপ বাড়ে, আবার পানি কমলে বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর জেগে ওঠে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়ে ভাঙন বাড়ছে।


বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ২০০০ সাল থেকে তার ইউনিয়নের সাতটি মৌজার প্রায় দেড় হাজার পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেরি হলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী তীররক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, কুড়িগ্রামের তিস্তায় সাড়ে ১৪ কিলোমিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে। আপাতত স্থায়ী তীররক্ষা বা নদী খননের কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে নদীর দুই পাড় সুরক্ষিত করে ভাঙনের স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে।//


Bengal Times

Publisher: Bengaltimes LLC, USA.
Editor: Masud Alam Chowdhury

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তার তীব্র ভাঙনে আতঙ্কে স্থানীয়রা
0:00 / 0:00
1x