অনলাইন ডেস্ক:
বাংলাদেশ যখন অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে সে সময় সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলে দেশ ও দেশের বাইরে এত মাতামাতি কেন হচ্ছে তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য অপতৎপরতা চলছে কিনা সে বিষয়েও তিনি সন্দিহান বলে জানিয়েছেন। ওয়াশিংটন সফরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেইক সুলিভানের সঙ্গে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কথা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
শুক্রবার (৬ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের ৭৮তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান ও যুক্তরাজ্য সফরের নানা দিক তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেইক সুলিভানের সঙ্গে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সরকারের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থ ও প্রযুক্তি সহায়তার বিষয়েও আলোচনা হয় সুলিভানের সঙ্গে। সবুজ জলবায়ু তহবিলে অর্থায়ন এবং ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ ফান্ডকে কার্যকর করার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সরকার প্রধান।
প্রধানমন্ত্রী জানান, জেইক সুলিভান নারী শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং সন্ত্রাস দমনের মতো সরকারের অর্জনের প্রশংসা করেন। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় তিনি বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। সভায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে জোরদার করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে দুই দেশ।
বাংলাদেশে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিষয়ে সরকার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষার তেমন কোন তফাত দেখা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যে অন্য কিছু আছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা নিয়মতান্ত্রিকতার মধ্যে এসে দেশ যখন অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তখন হঠাৎ অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে সবার এত মাতামাতি কেন, প্রশ্ন রাখেন প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশে উন্নতি হচ্ছে। একটা দেশ এত দ্রুত উন্নতি করে ফেলছে সেটাই সবার মাথাব্যথার কারণ হয়ে গেল কিনা এবং কীভাবে এটাকে নষ্ট করা যায় সেই প্রচেষ্টা কিনা সে ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তিনি বলে এসেছেন এক সময় বাংলাদেশ ছিলো গভমেন্ট বাই দ্য আর্মি, অব দ্য আর্মি ফর দো জেনারেল। আর গভমেন্ট বাই দ্য পিপল, অব দ্য পিপল ফর দ্য পিপল- এটা আওয়ামী লীগ সরকার স্ট্যাবলিশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে ১৬ দিনের সফর শেষে গত ৪ অক্টোবর দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী। ওইদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যান প্রধানমন্ত্রী।