হায়দার আলী চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার দ্রুত বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে ২৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১২ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ১২ ও জেনারেল হাসপাতালে ২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এলাকায় মশার প্রজনন ও ডেঙ্গু আক্রান্তের বিবেচনায় ৪৯০ টি হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে চসিকের বিভিন্ন ওয়ার্ডে মশার প্রজননে ৪৩৩ টি হটস্পট ও ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বিবেচনায় ৫৭ টি হটস্পট চিহ্নিত করা হয়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এ-র ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ বিভাগের উদ্যোগে পরিচালিত জরিপে এসকল হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে।
চসিকের ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ বিভাগের কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমে জানান, “মশার প্রজনন স্থল গুলোর মধ্যে অনাবাদি জমি, নালা, ডোবা, পুকুর, খাল, জলাশয়, ঝোপঝাড় ও পরিত্যক্ত বাড়ি রয়েছে। এসব স্পষ্ট গুলোতে মশক নিধন কীটনাশক ছিটানোর ওপর জোর দিচ্ছি। কয়েক মাস আগে আমি চসিকে যোগ দিয়েছি। দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ উদ্যোগে শহরে মশার প্রজনন স্থল চিহ্নিত করার কাজ শুরু করে নিজে মাঠ পর্যায়ে জরিপ চালিয়ে মশার প্রজনন স্থল গুলো চিহ্নিত করি। মশার এসব প্রজনন স্থল গুলোতে যদি কীটনাশক ছিটিয়ে মশার লাভা ধ্বংস করলে তাহলে মশার বংশ বিস্তার কমে গিয়ে মশার নিয়ন্ত্রণে আসলে মানুষ কিছুটা হলেও মশার উৎপাত থেকে রক্ষা পাবেন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এর ৪১ টি ওয়ার্ডে জরিপের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মশার প্রজননের চিহ্নিত ৪৩৩টি হটস্পট সমূহ; চসিকের ০১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডে ২৫টি, ০২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ডে ১৫টি, ০৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডে ১৫টি, ০৫ নম্বর মোহরা ওয়ার্ডে ৫২টি, ০৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ডে ২৯টি, ০৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডে ১৭টি, ০৮ নম্বর শোলক বহর ওয়ার্ডে ৩০টি, ০৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে ১৩টি, ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে ৬টি, ১১ নম্বর দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডে ১৬টি, ১২ নম্বর সরাই পাড়া ওয়ার্ডে ১২টি, ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে ৩টি, ১৪ নম্বর লালখান বাজার ওয়ার্ডে ৭টি, ১৫ নম্বর বাগ মনিরাম ওয়ার্ডে ৫টি, ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডে ৯টি, ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে ৭টি, ১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডে ১৩টি, ২০ নম্বর দেওয়ান বাজার ওয়ার্ডে ১২টি, ২১ নম্বর জামাল খান ওয়ার্ডে ১৪টি, ২২ নম্বর এনায়েত বাজার ওয়ার্ডে ৭টি, ২৩ নম্বর উত্তর পাওয়ার্ড ঠান টুলী ওয়ার্ডে ৮টি, ২৪ নম্বর উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ডে ২টি, ২৫ নম্বর রায়পুর ওয়ার্ডে ১২টি, ২৬ নম্বর উত্তর হালি শহর ওয়ার্ডে ১০টি, ২৮ নম্বর পাঠান টুলী ওয়ার্ডে ১২টি, ২৯ নম্বর পশ্চিম মাদার বাড়ি ওয়ার্ডে ১৬টি, ৩০ নম্বর পূর্ব মাদার বাড়ি ওয়ার্ডে ৮টি, ৩১ নম্বর আলকরন ওয়ার্ডে ৩টি, ৩২ নম্বর আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডে ৫টি, ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ওয়ার্ডে ৫টি, ৩৫ নম্বর বক্সিরহাট ওয়ার্ডে ৫টি, ৩৭ নম্বর মনির নগর ওয়ার্ডে ৫টি, ৩৮ নম্বর দক্ষিণ মধ্যম হালি শহর ওয়ার্ডে ১টি, ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালি শহর ১৪টি, ৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডে ১৬টি ও ৪১ নম্বর দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডে ৪টি মশার প্রজনন স্থল চিহ্নিত করা হয়েছে।
এছাড়া চসিকের ০৩ নম্বর পাঁচলাইশ ওয়ার্ড, ১৯ নম্বর দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ড, ২৭ নম্বর দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ড, ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গি বাজার ওয়ার্ড ও ৩৬ নম্বর গোসাইল ডাঙা ওয়ার্ডে মশার প্রজননের কোনো ব্রিডিং পয়েন্ট নেই বলে জরিপ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে নগরীতে ডেঙ্গু রোগী আক্রান্ত ও সনাক্তের ভিত্তিতে চিহ্নিত ৫৭টি হটস্পট সমূহের মধ্যে রয়েছে ; আকবর শাহ হাউজিং সোসাইটি, কর্নেল হাট, বিশ্ব কলোনি, ফোজদার হাট, সিটি গেইট এলাকা, উত্তর কাট্টলী, আলকরন, কোতোয়ালী, সদরঘাট, পূর্ব মাদার বাড়ি, এনায়েত বাজার, কাতালগঞ্জ, পশ্চিম বাকলিয়া, পূর্ব বাকলিয়া, দক্ষিণ বাকলিয়া, খুলশী, পশ্চিম খুলশী, মাদাম বিবির হাট, নাসিরাবাদ প্রপার্টিজ, মেহেদী বাগ, সিডিএ আবাসিক এলাকা, বায়েজিদ এলাকা, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, ডবলমুরিং কৈবল্যধাম হাউজিং সোসাইটি, অক্সিজেন, চট্টগ্রাম কলেজ সংলগ্ন এলাকা, পলো গ্রাউন্ড ময়দান সংলগ্ন এলাকা, কাজিরদেউরি, বাদাম তলী, উত্তর আগ্রাবাদ, দক্ষিণ আগ্রাবাদ, বন্দর টিলা, কাঠগড়, হালিশহর, ঈদগাহ, মুন্সি পাড়া, মাইজ পাড়া, বহদ্দারহাট, ফরিদের পাড়া খাল ও আশেপাশের এলাকা, খতিব বাড়ি খাল, শাপলা আবাসিক এলাকা, কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকা, হিলভিউ আবাসিক এলাকা, হামজারবাগ কলোনি সংলগ্ন ফরেস্ট একাডেমি, সমবায় আবাসিক এলাকা, পাহাড়িকা আবাসিক এলাকা এবং পূর্ব ষোলশহর আমিন শ্রমিক কলোনি।
ডেঙ্গু সনাক্ত হিসেবে চিহ্নিত হটস্পট গুলোর পাশে যে ঘরে ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে তার আশেপাশের এক কিলোমিটার এলাকাজুরে কীটনাশক ছিটানো জরুরি।
চট্টগ্রামে এ নিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়রের নিকট চিঠি পাঠিয়েছেন। এতে বর্ষা মৌসুমের শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চসিক এলাকায় এডিস মশা বাহিত ডেঙ্গু রোগী দ্রুত বেড়েই চলেছে। যা গত বছরের চেয়ে আশঙ্কা জনক। গত ৫ দিনে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ১৯৭ জন। এর মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এবিষয়ে সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, “চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের হার যেভাবে বাড়ছে এমন পরিস্থিতি থাকলে সামনে আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে। এডিস মশা নিধন করা না হলে ডেঙ্গু আরও আশঙ্কা জনক হারে বৃদ্ধি পেতে পারে।”