বরিশাল প্রতিনিধি:
বরিশাল মহানগর শ্রমিক লীগের সদ্য গঠিত কমিটি বাতিলের দাবিতে নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও রূপাতলী বাস টার্মিনালে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পদবঞ্চিতরা। রূপাতলী টার্মিনালে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হলেও নথুল্লাবাদে বাস মালিক ও শ্রমিকরা দফায় দফায় হামলা ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পুলিশ দুই দফা লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বর্তমানে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি রোধে টার্মিনালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বরিশাল মহানগর শ্রমিক লীগের ৭ বছরের পুরনো কমিটি বিলুপ্ত করে গত ১৮ জুলাই পরিমল চন্দ্র দাসকে সভাপতি ও রইজ আহমেদ মান্নাকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর শ্রমিক লীগের নতুন কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার এই কমিটির কথা প্রকাশ করা হয়। ওই কমিটিতে পদবঞ্চিত হন সদ্য সাবেক কমিটির সভাপতি আফতাব হোসেন।
নতুন কমিটির বাতিলের দাবিতে আফতাব অনুসারীরা শুক্রবার সকাল ১০টার পর রূপাতলী ও নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। দুই টার্মিনালে প্রায় ১৫ মিনিটের মতো সড়ক অবরোধকালে টার্মিনালে যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশের অনুরোধে বিক্ষোভকারীরা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। রূপাতলী টার্মিনালে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হলেও নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সড়ক অবরোধ ছেড়ে দেওয়ার পর কাশীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও পরিবহন শ্রমিক নেতা কামাল হোসেন লিটন মোল্লার নেতৃত্বে পরিবহন শ্রমিকদের একটি দল টার্মিনালে গেলে তাদের ওপর হামলা চালায় আফতাবের অনুসারীরা। তারা লিটন মোল্লাসহ তার অনুসারীদের বেদম মারধর করেন। পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। লিটন মোল্লার সমর্থকরা সড়কে এলোপাতাড়ি বাস রেখে ফের সড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশের অনুরোধে অবরোধ তুলে নেন লিটন সমর্থকরা। এ সময় তারা শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্ট করলে মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি আফতাবের অনুসারীরা শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে লিটন সমর্থকরা আফতাব অনুসারীদের মারধর করেন। এতে কয়েকজন আহত হন। এতে বাস টার্মিনালে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। দুই দফা সংঘর্ষ এবং পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত ২০ জন আহত হন। এই হামলা ও সংঘর্ষের জন্য উভয়পক্ষ পরস্পরকে দায়ী করেছে।
আফতাব হোসেন বলেন, ‘মহানগর শ্রমিক লীগের অবৈধ পকেট কমিটি বাতিলের দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি শেষে তারা টার্নিমালে বসেছিলেন। এ সময় একদল ভাড়াটে সন্ত্রাসী টার্মিনালে অতর্কিতে হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে। মালিক-শ্রমিকরা তাদের প্রতিরোধ করে।’ এ সময় পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেন তিনি।
এদিকে কাশীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও শ্রমিক নেতা কামাল হোসেন লিটন মোল্রা জানান, জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নে পকেট কমিটি গঠনের পায়তারা চলছে। নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের দাবিতে তারা বিক্ষোভ করেন। এ সময় মালিক সমিতির ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয় তালাবদ্ধ করে তাদের ওপর হামলা চালায়। অবিলম্বে নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন কমিটি গঠিত না হলে আগামী ১০ দিন পর শ্রমিকরা কর্মবিরতিতে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
দফায় দফায় হামলা সংঘর্ষ ও পুলিশের লাঠিচার্জের পর নথুল্লাবাদ টার্মিনালে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টার্নিমালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকরে মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) আলী আশরাফ ভূঁঞা সাংবাদিকদের বলেন, নথুলল্লাবাদে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে স্বার্থের দ্বন্দ্ব চলছে। দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বিষয়টি তাদের নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেন তিনি।