April 4, 2025, 1:06 pm
ব্রেকিং নিউজ
আমরা দেশে শান্তি চাই: প্রধান উপদেষ্টা চাঁদ দেখা গেছে,বাংলাদেশে কাল ঈদ ঢাকায় কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের হুমকি নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে ৫ বছর ক্ষমতায় দেখতে চান সারজিস খুলে দেওয়া হলো ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের ১৮ কিলোমিটার টেলিটক গ্রাহকদের সুখবর দিলো সরকার বাংলাদেশ কুরআনের উর্বর ভূমি: ধর্ম উপদেষ্টা ছুটির দিনেও রাষ্ট্রায়ত্ত ৪ ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ দুদকের মামলা: সাবেক মন্ত্রী নাসিমের ছেলের যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ অ্যাপার্টমেন্ট বাংলাদেশকে সামরিক সহায়তা দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র ঈদুল ফিতরে বায়তুল মোকাররমে ৫ জামাত চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধান উপদেষ্টা পাসপোর্ট নিয়ে সুখবর দিলেন প্রধান উপদেষ্টা ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা পুলিশের ৪৩ কর্মকর্তাকে বদলি সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা সাংবাদিকদের ন্যূনতম বেতন ৩৫ হাজার টাকা করার সুপারিশ আ.লীগের পুনর্বাসন পরিকল্পনা কঠোর হাতে দমন করা হবে: নাহিদ গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা আজ আ.লীগের নিবন্ধন বাতিল ও রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি এনসিপির

পোশাক রপ্তানির আড়ালে আরব আমিরাতে ১৪৭ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা পাচার

রিপোর্টারের নাম:
  • আপডেট টাইম Monday, July 24, 2023
  • 139 দেখা হয়েছে

হায়দার আলী চট্টগ্রাম:

১৯ প্রতিষ্ঠান পোশাক রপ্তানির আড়ালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৪৭ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা পাচারের সত্যতা পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর চট্টগ্রাম। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকার-১৭ টি ও চট্টগ্রামের-২ টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

গতকাল কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত মহা-পরিচালক মোঃ বশীর আহমেদ এর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর থেকে সরবরাহ করা তালিকায় এসব অর্থ পাচারের সাথে জড়িত ১৯টি প্রতিষ্ঠানের নাম দেখা যায়।

এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে- টোটাল কোয়ালিটি কোম্পানি ১৯টি চালানের মাধ্যমে ১ লাখ ১৫ হাজার ৭০০ ডলার রপ্তানি মূল্য দেখিয়ে ২৫৬ মেট্রিক টন ২০০ কেজি পণ্য রপ্তানি করে। কিন্তু এসব রপ্তানি পণ্যের প্রকৃত মূল্য ছিল ৭ লাখ ৬৮ হাজার ৬০০ ডলার।
তাবাসসুম ইন্টারন্যাশনাল ৬টি চালানের মাধ্যমে ৬৬ হাজার ৬০১ ডলার রপ্তানি মূল্য দেখিয়ে ৪০ মেট্রিক টন ৫০০ কেজি পণ্য রপ্তানি করে। কিন্তু এসব পণ্যের প্রকৃত রপ্তানি মূল্য ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৮৫১ ডলার।
সেফ ফ্যাশন এন্ড ট্রেডিং ৫০টি চালানের মাধ্যমে ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৭৪৩ ডলার রপ্তানি মূল্য দেখিয়ে ৬৭২ মেট্রিকটন ৫৩৮ কেজি পণ্য রপ্তানি করে। এ-সব পণ্যের প্রকৃত রপ্তানি মূল্য ছিল ২০ লাখ ১৭ হাজার ৬১৪ ডলার।
জুবায়ের ট্রেডিং ১১ টি চালানের মাধ্যমে ৬৮ হাজার ৬৪১ ডলার রপ্তানি মূল্য দেখিয়ে ১৫০ মেট্রিকটন ১০০ কেজি পণ্য রপ্তানি করে। কিন্তু এসব পণ্যের প্রকৃত রপ্তানি মূল্য ছিল ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০০ ডলার।
মেঘনা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ১৩ টি চালানের মাধ্যমে ২ লাখ ৫০ হাজার ২৫৮ ডলার রপ্তানি মূল্য দেখিয়ে ১৬৪ মেট্রিকটন ৯০০ কেজি পণ্য রপ্তানি করে। এসব পণ্যের প্রকৃত রপ্তানি মূল্য ছিল ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৭০০ ডলার।
এমআই ট্রেডিং ৯ টি চালানের মাধ্যমে ৫৯ হাজার ৬৯৭ ডলার রপ্তানি মূল্য দেখিয়ে ১২৫ মেট্রিকটন ২০০ কেজি পণ্য রপ্তানি করে। কিন্তু এসব পণ্যের প্রকৃত রপ্তানি মূল্য ছিল ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬০০ ডলার।
মারওয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ১৪ টি চালানের মাধ্যমে ৩ লাখ ২২ হাজার ৩২৫ ডলার রপ্তানি মূল্য দেখিয়ে ১২৫ মেট্রিকটন ৫৪৯ কেজি পণ্য রপ্তানি করে। এসব পণ্যের প্রকৃত রপ্তানি মূল্য ছিল ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৬৪৭ ডলার।
কে মুড টেক্সটাইল ৩১ টি চালানের মাধ্যমে ২ লাখ ২৫ হাজার ৭৭০ ডলার রপ্তানি মূল্য দেখিয়ে ৩৯১ মেট্রিকটন ২৮৮ কেজি পণ্য রপ্তানি করে। কিন্তু এসব পণ্যের প্রকৃত রপ্তানি মূল্য ছিল ১১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৬৪ ডলার।
নাজাফ ট্রেডিং ১৯ টি চালানের মাধ্যমে ১ লাখ ৯ হাজার ৫০১ ডলার রপ্তানি মূল্য দেখিয়ে ২৫৪ মেট্রিকটন ৫০০ কেজি পণ্য রপ্তানি করে। প্রকৃত পক্ষে এসব পণ্যের রপ্তানি মূল্য ছিল ৭ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ ডলার।
তাহসিন ইন্টারন্যাশনাল ১৮ টি চালানের মাধ্যমে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৪৯ ডলার রপ্তানি মূল্য দেখিয়ে ২৪৬ মেট্রিকটন ২০০ কেজি পণ্য রপ্তানি করে। কিন্তু এসব পণ্যের প্রকৃত রপ্তানি মূল্য ছিল ৭ লাখ ৩৮ হাজার ৬০০ ডলার।
আল ফাহাদ ট্রেড লাইন্স ৪ টি চালানের মাধ্যমে ৩৫ হাজার ৮২৫ ডলার রপ্তানি মূল্য দেখিয়ে ৫২ মেট্রিকটন ৯৫০ কেজি পণ্য রপ্তানি করে। কিন্তু এসব পণ্যের প্রকৃত রপ্তানি মূল্য ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার ৮৫০ ডলার।
এয়ার বাংলা ২৫ টি চালানের মাধ্যমে ৯৭ হাজার ৬৬৩ ডলার রপ্তানি মূল্য দেখিয়ে ১৯২ মেট্রিকটন ৩৮২ কেজি পণ্য রপ্তানি করে। কিন্তু এসব পণ্যের প্রকৃত রপ্তানি মূল্য ছিল ৫ লাখ ৭৭ হাজার ১৪৬ ডলার।
জিএস খান অ্যাপারেলস ২২ টি চালানের মাধ্যমে ১ লাখ ৮০ হাজার ২৯১ ডলার রপ্তানি মূল্য দেখিয়ে ২৯৭ মেট্রিকটন ৫২ কেজি পণ্য রপ্তানি করে। কিন্তু এসব পণ্যের প্রকৃত রপ্তানি মূল্য ছিল ৮ লাখ ৯১ হাজার ১৫৬ ডলার।
ইমাজিন ঢ্যাশন লিমিটেড ৮ টি চালানের মাধ্যমে ৪৮ হাজার ডলার রপ্তানি মূল্য দেখিয়ে ১০৭ মেট্রিকটন ২০০ কেজি পণ্য রপ্তানি করে। কিন্তু এসব পণ্যের প্রকৃত রপ্তানি মূল্য ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ৬০০ ডলার।
মাস্টার ইন্টারন্যাশনাল ৭টি চালানের মাধ্যমে ৫৫ হাজার ডলার রপ্তানি মূল্য দেখিয়ে ৮০ মেট্রিকটন ৩৫ কেজি পণ্য রপ্তানি করে। কিন্তু এসব পণ্যের প্রকৃত রপ্তানি মূল্য ছিল ২ লাখ ৪০ হাজার ১০৫ ডলার।
ফ্যাশন কম ফোর্ট (বিডি) লিমিটেড ২৩ টি চালানের মাধ্যমে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৮৫ ডলার রপ্তানি মূল্য দেখিয়ে ৩১৩ মেট্রিকটন ৯০০ কেজি পণ্য রপ্তানি করে। কিন্তু এসব পণ্যের প্রকৃত রপ্তানি মূল্য ছিল ৯ লাখ ৪১ হাজার ৭০০ ডলার।
এআইফা এন্টারপ্রাইজ ৩৯ টি চালানের মাধ্যমে ৫ লাখ ৩৬ হাজার ১৯৪ ডলার রপ্তানি মূল্য দেখিয়ে ১ হাজার ১৩৪ মেট্রিকটন ২১৭ কেজি পণ্য রপ্তানি করে। কিন্তু এসব পণ্যের প্রকৃত রপ্তানি মূল্য ছিল ৩৪ লাখ ২ হাজার ৬৫১ ডলার।
ফাস্ট এক্সপোর্টস (বিডি) লিমিটেড ৪৬ টি চালানের মাধ্যমে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৪০৫ ডলার রপ্তানি মূল্য দেখিয়ে ৫৮২ মেট্রিকটন ৩৩০ কেজি পণ্য রপ্তানি করে। প্রকৃতপক্ষে এসব পণ্যের প্রকৃত রপ্তানি মূল্য ছিল ১৭ লাখ ৪৬ হাজার ৯৯০ ডলার।
এছাড়াও জেডইই ফ্যাশন ৬০ টি চালানের মাধ্যমে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৮৫ ডলার রপ্তানি মূল্য দেখিয়ে ৫৫৯ মেট্রিকটন ৬০৪ কেজি পণ্য রপ্তানি করে। কিন্তু এসব পণ্যের প্রকৃত রপ্তানি মূল্য ছিল ১৭ লাখ ৮ হাজার ৮১২ ডলার।

১৯ টি প্রতিষ্ঠান সর্বমোট ৪২৪ টি চালানের মাধ্যমে ৩৪ লাখ ১৩ হাজার ১১৬ ডলার রপ্তানি মূল্য দেখিয়ে ৫ হাজার ৭৫৭ মেট্রিকটন পণ্য রপ্তানি করে। কিন্তু এ-সব পণ্যের প্রকৃত রপ্তানি মূল্য ছিল ১ কোটি ৭২ লাখ ৭০ হাজার ২৮৬ ডলার।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক বশীর আহমেদ বলেন, “ঢাকার-১৭ টি ও চট্টগ্রামের-২ টিসহ মোট ১৯ টি প্রতিষ্ঠান ৪২৪ টি চালানের মাধ্যমে ৫ হাজার ৭৫৭ মেট্রিকটন তৈরী পোশাক রপ্তানির আড়ালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৫৭ হাজার ১৭০ ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় ১৪৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা পাচার করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে। অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে এ-ই ১৯ টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে ১৯ টি পৃথক মামলা করা হবে।”

শেয়ার করুন
এই ধরনের আরও খবর...
themesba-lates1749691102