তাহমিনা আক্তার
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সাদা কাপড় পরিধান কর এবং তা দিয়ে তোমাদের মৃতদের কাফন পরাও। কেননা তা তোমাদের জন্য উত্তম পোশাক। আর তোমাদের জন্য উত্তম সুরমা হলো ইচমির সুরমা। কারণ তা দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় এবং চোখের পাতার চুল গজায়’ [সুনানে আবু দাউদ : ৩৮৭৮]।
এ ছাড়া প্রকৃতির এক অপার দান মেসওয়াক। মেসওয়াকের মাঝেও নানা রোগের নিরাময় রয়েছে। নিয়মিত মেসওয়াক পাকস্থলী সুস্থ রাখে, শরীর শক্তিশালী করে। মেসওয়াকে স্মরণশক্তি ও জ্ঞান বাড়ে, অন্তর পবিত্র হয় এবং সৌন্দর্য বাড়ে।
মেসওয়াকের মধ্যে মোট ৭০টি গুণ রয়েছে। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘মেসওয়াকের মধ্যে ৭০টি গুণ। তার মধ্যে সর্বনিম্ন গুণ হলো মৃত্যুর সময় কালিমায় শাহাদাত নসিব হবে’ [মিরকাত-২ঃখ/৩ঃপৃ]।
মেসওয়াকের অন্যতম গুণ হচ্ছে চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি করা। রাসূল (সা.)-এর জীবনের শেষ আমল ছিল মেসওয়াক। তিনি তার উম্মতের কষ্ট হবে বলে প্রত্যেক নামাজের পূর্বে মেসওয়াক করা বাধ্যতামূলক করেননি। মেসওয়াকের বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলত রয়েছে।
এটি প্রত্যেক নবির জীবনে ৪টি সাধারণ সুন্নাহের মধ্যে অন্যতম একটি সুন্নাহ। মর্মকথা হলো, চোখের জন্য মেসওয়াক ও সুরমা দুটিই খুবই উপকারী যা রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ ও বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত।
তাই যারা চোখের নানা সমস্যায় ভুগছেন তাদের প্রতি পরামর্শ ও উপদেশ রইল নিয়মিত মেসওয়াক ও চোখে সুরমা লাগানোর। এটি একদিকে যেমন আপনার চোখকে সুরক্ষা করবে অপরদিকে রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ পালন হবে। আর যে রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ পালন করেন তার জন্য এ হাদিস, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে ভালোবাসে সে আমাকেই ভালোবাসে, আর যে আমাকে ভালোবাসে সে আমার সঙ্গেই জান্নাতে থাকবে’ [তিরমিযী : ২৬২৮]।