লতিফুর রহমান রাজু.সুনামগঞ্জ:
সোমবার দিবাগত ভোররাতে সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা প্রবল পাহাড়ি ঢল ও অব্যাহত ভারী বর্ষণে সুরমা নদী এবং অভ্যন্তরীণ নদ নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও সড়ক প্লাবিত হয়। গতকাল সোমবার বিকাল থেকে পানি কমতে থাকলে মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে রাত পেরিয়ে ভোরের দিকে হুহু করে পানি প্রবেশ করে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার উপর প্রবাহিত হলেও দুপুর তিন টার দিকে বিপদসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার উপর প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ৬৫ মিলিমিটার ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ৩৯৫ মিলিমিটার। সুনামগঞ্জ জেলার ১২ উপজেলায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও সবচে বেশী দোয়ারাবাজার. ছাতক ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা। এছাড়াও সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার ৯ ,টি ওয়ার্ডের সব কটিই প্লাবিত হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা শহরের সাথে দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর, ছাতক তাহিরপুর উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ইতিমধ্যেই বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে নৌকার উপরেই ভরসা করতে হচ্ছে। সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার তেঘরিয়া, বড়পাড়, আরপিনগর, পশ্চিম হাজী পাড়া, ষোলঘর, নবীনগর, সুলতান পুর, জলিল পুর, উকিল পাড়া সহ বিভিন্ন জায়গাতেই মানুষের ঘরবাড়ি, ও সড়কে পানি প্রবেশ করেছে। এছাড়াও মধ্য বাজার, পূর্ব বাজার সহ অন্যান্য দোকানপাট পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার কারণে ব্যবসায়ীদের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতির আশংকা রয়েছে। পৌর এলাকা সহ বিভিন্ন উপজেলার নলকূপ গুলোর কিছু কিছু পানির নীচে চলে যাওয়ার ফলে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। হাসঁ মোরগ ও মাছের সহ.অন্যান্য গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা মৎস্য অফিসার সামছুল করিম জানিয়েছেন, বন্যার ফলে ইতিমধ্যেই ২ হাজারের অধিক চাষকৃত পুকুরের মাছ ভেসে গেছে টাকার অংকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৫শ কোটি টাকা। সুনামগঞ্জ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র আহমদ নুর জানিয়েছেন দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য মঙ্গলবার দুপুরে জরুরী সভা করে পানি বন্দি মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসা ও শুকনো খাবার চিড়া গুড় মোমবাতি দিয়াশলাই পৌছেঁ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং বিতরণ করি। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার পুনরায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল সকাল থেকেই বন্যা কবলিত পৌর এলাকার তেঘরিয়া, বড়পাড়া, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের উড়ার কান্দা, সৈয়দ পুর সহ অন্যান্য এলাকার বাড়িঘরে ও আশ্রয় শিবিরের বন্যার্ত মানুষের খোঁজ খবর নেন এবং শুকনো খাবার ও চাল,ডাল বিতরণ করেন। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইউএনও মৌসুমী মান্নান জানিয়েছেন গতকাল থেকেই ৬২ টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করে রাখা হয় আজ আবার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দোয়ারাবাজার উপজেলার ইউএনও মেহের নিগার তনু জানিয়েছেন গতকাল থেকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ১৭ ,টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। মানুষ দের উদ্ধার করে নিয়ে আসার পর শুকনো খাবার দেয়া হচ্ছে। পরে রান্না করা খাবার ও দেয়া হবে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ইউএনও মফিজুল ইসলাম জানিয়েছেন ইতিমধ্যেই ২২টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলে মানুষ কে নৌকা করে উদ্ধার করা হয়। তাদের ত্রান বিতরণ ও শুকনো খাবার দেয়া হয়। ছাতক উপজেলার ইউএনও গোলাম মোস্তফা মুন্না জানিয়েছেন ছাতক উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ অন্যান্য উচু জায়গাতে বন্যা কবলিত দের আশ্রয় কেন্দ্র খোলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। দিরাই উপজেলার ইউএনও মাহমুদুর রহমান খন্দকার জানিয়েছেন উপজেলার তাড়ল, রাজানগর, ও দিরাই পৌর এলাকার বিভিন্ন জায়গাতে ৪৮ ,টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলার ইউএনও সুকান্ত সাহা জানান উপজেলার শিমুল বাক,পশ্চিম বীরগাঁও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জগন্নাথপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জামালগঞ্জ উপজেলার নব নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান আকবর হোসেন জানান জামালগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন বেহেলী, ফেনারবাক ,জামালগঞ্জ সদর জামালগঞ্জ উত্তর ও সাচনা বাজার ইউনিয়নের কিছু অংশ প্লাবিত হয়েছে,তাদের শুকনো খাবার দেয়া হচ্চে। তাহিরপুর উপজেলার ইউএনও সালমা পারভীন জানিয়েছেন বন্যা পরিস্থিতি জনিত কারণে তাহিরপুর উপজেলার পর্যটন স্পট গুলো পরবর্তী নির্দেশ নক দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। সুনামগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর, দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলা বেশী প্লাবিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যান্য উপজেলা ও প্লাবিত হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৫১৬ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। দুপুরে দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য জরুরী সভা করে বন্যা কবলিত উপজেলার জন্য ৫ মেট্রিক টন জি আর চাল বরাদ্দ দিয়েছেন। পর্যাপ্ত ত্রান সামগ্রী রয়েছে, চিন্তার কোন কারণ নেই, সরকার আরও বরাদ্দ দেবে। তিনি সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বন্যা কবলিত মানুষের ঘরবাড়ি ও আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন ত্রান বিতরণ করেন। সুনামগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য ডঃ মোহাম্মদ সাদিক বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।