হায়দার আলী চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের বিনোদন কেন্দ্র গুলোতে সকাল থেকে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
১ জুলাই (শনিবার) চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডাঃ শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পরিচালিত ‘চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়’ সকাল থেকে বেলা ১ টা পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে। ঈদের ২য় দিন শুক্রবার সাড়ে ১০ হাজার দর্শনার্থী চিড়িয়াখানায় এসেছিল। প্রতিটি টিকিটের বিক্রি মূল্য ৭০ টাকা হিসেবে এদিন প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা আয় হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় পরিবার- পরিজন নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে চিড়িয়াখানা। ৭৩ প্রজাতির ৬২০ টিরও বেশি প্রাণী ও পাখি রয়েছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়। এছাড়াও এখানে শিশুদের বিনোদনের জন্য পৃথক কিডস জোন রয়েছে। সেখানে দোলনাসহ বিভিন্ন রকমের রাইডও রয়েছে।”
এদিকে ওয়াটার পার্ক সী ওয়াল্ড পার্কে সকাল থেকে তরুণ-তরুণী ও কিশোর-কিশোরিদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে। সী ওয়াল্ডের ওয়েব পুল ও ড্যান্সিং জোনে ডিজ মিউজিকের তালে তালে, নাচে-গানে মুখিরত।
ফয়’স লেকের এ্যামিউজমেন্ট পার্কে সন্ধ্যায় রয়েছে কনসার্টের আয়োজন। বাচ্চাদের জন্য রয়েছে ম্যাজিক শো। সকলের জন্য গিফট রয়েছে।
ফয়’স লেক এ্যামিউজমেন্ট পার্কের উপ-ব্যবস্থাপক (বিপণন) বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, “আগত দর্শনার্থীদের আনন্দে কেউই যেন কারো আনন্দে ব্যাঘাত না ঘটায়। সকলেই যেন স্বাধীন ভাবে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে পারে সকলের নিকট সেই অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রকুতির সান্নিধ্য উপভোগের জন্য অনেকে নৌকাযোগে লেক ভ্রমণকে বেছে নিয়ে থাকেন। নির্মল বিনোদনের উদ্দেশ্যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় ‘কনকর্ড ফয়’স লেক কমপ্লেক্সে প্রচুর দর্শনার্থীদের আগমন ঘটেছে।”
নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে সকাল থেকে অনেক দর্শনার্থী ভিড় করেছেন। পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় দায়িত্বরত ট্যুরিস্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর ইসরাফিল মজুমদার বলেন, “পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় হেল্প ডেস্ক বসানো হয়েছে এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ সতর্ক রয়েছে। আরও রয়েছে মা ও শিশু কর্নারসহ দর্শনার্থীদের জন্য তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। এমনকি পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে ক্যুইক রেসপন্স টিম, ইভটিজিংসহ যেকোনো অপরাধ ঠেকানোর জন্য সবসময় প্রস্তুত রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।”
এছাড়াও নগরীর পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তীরে নেভাল একাডেমি প্রজাপতি পার্ক, কর্ণফুলী শিশু পার্ক, হালিশহর সাগর পাড় ও আগ্রাবাদ জাতি তাত্ত্বিক জাদুঘর। এছাড়াও নগরীর বাইরে চট্টগ্রাম জেলার ১৫ টি উপজেলায় একাধিক বিনোদন কেন্দ্র রয়েছে যেগুলোতেও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে।