কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের সবকটি নদনদীর পানি বাড়ছে। তবে দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পানি হু হু করে বেড়ে বিপৎসীমার ৮ সে. মি. ওপর দিয়ে বইছিল। পরে সন্ধ্যা ৬টায় স্থানীয় পাউবো জানায়, পানি কমতে শুরু করেছে এবং বিপৎসীমার ৩ সে. মি, ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়াও জেলার ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থেকে বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। জেলার নাগেশ্বরী উপজেলা বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের তেলিয়ানী পাড়ায় মুড়িয়াবাজারে দুধকুমার নদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ২৫০ মিটার ধ্বস নেমে পানি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরে পাউবোর চেষ্টায় বাঁধের পানি নিয়ন্ত্রণ হয়।
এদিকে, গত ৪ দিনের উজানের ঢল ও অবিরাম বৃষ্টির কারণে নদনদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ১৬টি নদনদীর প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাধিক চরাঞ্চলে ৭/৮ লাখ মানুষের বসবাস। পাহাড়ী ঢল আর টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীগুলোতে পানি বাড়ায় নদী অববাহিকার চরাঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি বাড়ায় গ্রামীণ সড়ক এবং নিম্নাঞ্চলের বাড়িগুলো পানিবন্দি হওয়ায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার মানুষ নৌকা-ভেলা করে চলাচল করছে। এছাড়াও পানিতে তলিয়ে গেছে সবজি, আমনের চারাসহ পাট।
বামনডাঙ্গা ৮ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আবেদ আলী জানান, মঙ্গলবার বিকেল থেকে তেলিয়ানীতে তার বাড়ির পাশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ওপর দিয়ে দুধকুমারের পানি এলাকায় প্রবেশ করতে থাকে। ক্রমে মাটি ক্ষয়ে স্রোতের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বড় বড় গর্ত হয়ে তলিয়ে যেতে থাকে বাঁধে থাকা জিও ব্যাগ। একসময় স্রোতের তীব্রতায় ধব্বসে যায় প্রায় ২৫০ মিটার বাঁধ। সদর উপজেলার নদী এলাকায় অনেকেই করলা, ঝিঙে, শশাসহ নানা সবজি আবাদ করেছেন। পানিতে তলিয়ে এসব কৃষক দিশেহারা। ফলন বেশ ভালো হয়েছে কিন্তু পানি এসে সবজি খেত তলিয়ে গেছে কোথাও খেত নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম। যাত্রপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর জানান, আমার ইউনিয়নে বন্যার পানিতে কম পক্ষে ৮ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।