উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মমিনুল ইসলাম মোল্লা
কিয়ামতের দিন হবে মানবজাতির জন্য এক ভয়াবহ দিন। সেদিন মানুষ দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর বিচারকার্য শুরু করার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ কামনা করবে। এ ঘটনাটি সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে।
হাদিসে এসেছে, মানুষ প্রথমে আদম (আ.)-এর কাছে যাবে। তিনি নিজের একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে অন্য নবীর কাছে যেতে বলবেন। এরপর মানুষ পর্যায়ক্রমে নূহ (আ.), ইবরাহিম (আ.), মূসা (আ.) ও ঈসা (আ.)-এর কাছে যাবে। শেষ পর্যন্ত তারা মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে উপস্থিত হবে। তিনি আল্লাহর অনুমতিতে মহান শাফাআত করবেন। ইসলামে এটি ‘শাফাআতে কুবরা’ নামে পরিচিত।
আদম (আ.)-এর তওবা
আল্লাহ আদম (আ.) ও তাঁর স্ত্রীকে জান্নাতে একটি নির্দিষ্ট গাছের কাছে যেতে নিষেধ করেছিলেন। শয়তানের প্ররোচনায় তাঁরা নিষেধ অমান্য করেন। পরে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তাঁদের দোয়া ছিল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন, তাহলে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।’ (সূরা আল-আরাফ: ২৩)। এ ঘটনা আমাদের শেখায়, ভুল হলে অহংকার না করে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হয়।
নূহ (আ.)-এর ছেলের ঘটনা
মহাপ্লাবনের সময় নূহ (আ.) তাঁর অবিশ্বাসী ছেলেকে নৌকায় ওঠার আহ্বান জানান। কিন্তু সে পাহাড়ে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে এবং ডুবে যায়। পরে নূহ (আ.) আল্লাহর কাছে আবেদন করলে আল্লাহ তাঁকে জানিয়ে দেন, তাঁর ছেলে ঈমানদারদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। (সূরা হুদ: ৪২–৪৭)। এ ঘটনা প্রমাণ করে, নাজাতের ভিত্তি বংশপরিচয় নয়; বরং ঈমান ও সৎকর্ম।
ইবরাহিম (আ.)-এর তিন বক্তব্য
সহিহ হাদিসে ইবরাহিম (আ.)-এর তিনটি বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘আমি অসুস্থ’ (সূরা সাফফাত: ৮৯) এবং মূর্তি ভাঙার পর বড় মূর্তিটির দিকে ইঙ্গিত করে বলা, ‘বরং এদের বড়টিই করেছে’ (সূরা আম্বিয়া: ৬৩)। তৃতীয় ঘটনায় তিনি সারাকে ‘আমার বোন’ বলেছিলেন। আলেমরা এসব বক্তব্যের ব্যাখ্যায় তাওরিয়া বা দ্ব্যর্থবোধক বক্তব্যের বিষয়টি আলোচনা করেছেন। এগুলোকে সাধারণ মানুষের নিন্দনীয় মিথ্যার সঙ্গে এক করা ঠিক নয়।
মূসা (আ.)-এর ক্ষমাপ্রার্থনা
সূরা কাসাসের ১৫–১৭ নম্বর আয়াতে মূসা (আ.)-এর একটি ঘটনার বর্ণনা রয়েছে। সংঘর্ষের সময় তাঁর আঘাতে একজন ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এরপর তিনি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করেন। পরে তিনি অপরাধীদের সহযোগী না হওয়ার অঙ্গীকার করেন।
আমাদের শিক্ষা
নবীদের এসব ঘটনা থেকে তওবা, আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, তাওহিদের দাওয়াত এবং ন্যায়ের পথে থাকার শিক্ষা পাওয়া যায়। কিয়ামতের দিন শাফাআতও হবে একমাত্র আল্লাহর অনুমতিক্রমে। তাই আমাদের উচিত ঈমান ও সৎকর্মের মাধ্যমে আখিরাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করা এবং আল্লাহর রহমত কামনা করা।
তথ্যসূত্র: পবিত্র কোরআন; সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৩৪০ ও ৪৪৭৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৯৩–১৯৪; তাফসির ইবনে কাসির।
লেখক পরিচিতি - মমিনুল ইসলাম মোল্লা, ধর্মীয় আর্টিকেল লেখক, শিক্ষক ও সাংবাদিক, কুমিল্লা।।