প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬
নাক-মুখ ও চোখে বিরল মাংসবৃদ্ধি রোগ: রিকশাচালক আব্দুল আলীকে বাঁচাতে আকুতি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ:শুষ্ক মৌসুমে ছিদ্র দিয়ে আলোকরশ্মি উঁকি দেয়, আর বর্ষায় ভাঙা ঘরে অঝরে পড়ে বৃষ্টির পানি। কোথাও পলিথিন, কোথাও বস্তা, আবার কোথাও জনসভার নষ্ট ব্যানারের নিচে মাথা গোঁজার ঠাঁই—এমনই এক জীর্ণশীর্ণ ঘরে এক ছেলে আর এক মেয়েকে নিয়ে চলছিল দিনমজুর ও রিকশাচালক আব্দুল আলীর (৩২) সংসার। তবে অভাবের এই সংসারে এখন নেমে এসেছে এক গভীর অন্ধকার। তিনি দুরারোগ্য ও বিরল ‘রাইনোস্পোরিডিওসিস’ (Rhinosporidiosis) এবং ‘বাইল্যাটারাল নাসাল মাস’ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, এই বিরল রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে আব্দুল আলীর নাক, মুখ, কান এবং চোখের ভেতরে ও বাইরে অতিরিক্ত মাংসপিণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ধমনি ও শিরার মধ্যকার জটিলতা সৃষ্টি হয়ে তার জীবন আজ সংকটাপন্ন।
জানা যায়, অসুস্থ হওয়ার আগে রিকশা চালিয়ে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার পৌর শহরের সতিষা গ্রামের প্রয়াত আব্দুস সোবহানের ছেলে আব্দুল আলীর সংসার জীবনে রয়েছে দুই সন্তান। বড় ছেলে রুহান মিয়া সতিষা পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে এবং ছোট্ট মেয়ে রোকিয়া আক্তারের বয়স মাত্র এক বছর দুই মাস। মাথা গোঁজার ওই ভাঙা ঘরটুকু ছাড়া তাদের আর কোনো সহায়-সম্পদ নেই।
গত ৯ এপ্রিল থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর বর্তমানে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় চক্ষু ইনস্টিটিউটেও নিতে হচ্ছে চোখের চিকিৎসা।
বাবার এমন দুঃসময়ে ছোট্ট রুহান অসহায় চোখে পথ চেয়ে আছে—কখন তার বাবার রিকশার বেল বাজবে, কখন সে শুনবে বাবার সেই ডাক—‘রুহান, রুহান!’ ফ্যালফ্যাল চোখে বাবার কথা বলতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশুটি। অসহায় রুহান আকুতি জানিয়ে বলে, ‘আমার বাবাকে বাঁচান, আব্বা কখন আসবে! আমি ও ছোট্ট বোনটাকে বাঁচিয়ে রাখতে, প্লিজ বাবাকে সহযোগিতা করুন।’
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে বাঁচাতে গিয়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন তার স্বজনরা। আব্দুল আলীর বড় ভাই মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, দিনমজুরের কাজ করে কোনোমতে সংসার চালানো মঞ্জুর নিজের জমানো ৩০-৪০ হাজার টাকা খরচ করার পাশাপাশি ভাইয়ের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে শেষ সম্বল রিকশাটিও বিক্রি করে দিয়েছেন। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভাইকে নিয়ে থাকার সুবাদে প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করাও তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অন্য রোগীদের দেওয়া বাড়তি খাবার খেয়ে তারা বেঁচে আছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ভাইটাকে বাঁচাতে চাই। ডাক্তার বলেছেন অপারেশন করতে ২-৩ লাখ টাকা লাগবে। এত টাকা কোথায় পাব? আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা কিছুটা সহযোগিতা করেছেন, কিন্তু তা অপর্যাপ্ত। অপারেশন করাতে পারলে সে সুস্থভাবে আমাদের মাঝে ফিরতে পারবে।’
সহযোগিতা পাঠানোর আহ্বান:
একজন অসহায় রিকশাচালককে বাঁচাতে এবং দুটি শিশুর মাথার ওপর থেকে পিতৃছায়া হারিয়ে যাওয়া রোধ করতে সমাজের বিত্তবান, হৃদয়বান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। আপনাদের একটু সহানুভূতি ও আর্থিক সহায়তা বাঁচিয়ে দিতে পারে আব্দুল আলীর জীবন।
Publisher: bengaltimes LLC, USA.
|
Editor: Masud Alam Chowdhury
Editor Office: 117, Manchester Ave, Paterson, New Jersey, Postcode: 07502, US - United States.
Email: editorbengaltimes@gmail.com, newsbengaltime@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।