উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাদারিত্ব ও উপস্থিতি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার পর সমালোচনার মুখে ক্ষমা চেয়েছেন ‘চ্যানেল এস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাহি জলিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ওই বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সাংবাদিক ফজলু মিয়ার কাছে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে মাহি জলিল দাবি করেছিলেন, বেশিরভাগ সাংবাদিক দাওয়াত না পেলে কোনো অনুষ্ঠান কাভার করতে যান না। এছাড়া তিনি সাংবাদিকদের খাবার, পরিবার ও বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন এবং তাঁর ওই বক্তব্য প্রচার করা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন।
তবে ফজলু মিয়ার সাথে সাম্প্রতিক ওই সাক্ষাৎকারে মাহি জলিল দাবি করেন, তাঁর বক্তব্যটি ‘স্লিপ অব টাং’ (মুখ ফসকে বেরিয়ে যাওয়া) ছিল এবং তিনি প্রকৃত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তা বলেননি।
তিনি বলেন, "যারা রিয়েল সাংবাদিক, তারা যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন—আমার ইনটেনশন তা ছিল না। সাংবাদিককে আমি জাতির বিবেক ও সমাজের আয়না মনে করি। তবে যারা শুধু একটা আইফোন বা স্মার্টফোন নিয়ে এবং কোনো রকম গবেষণা বা এডিটিং ছাড়া নিজেদের সাংবাদিক দাবি করে কনটেন্ট বানান, মূলত আমি তাদের উদ্দেশ্যেই কথাগুলো বলেছি।"
তিনি আরও বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে ভুয়া ও অপেশাদার কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ভিড়ে প্রকৃত সাংবাদিকরা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। এ সময় তিনি মূলধারার সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে জানান যে, এখনও মানুষ ট্র্যাডিশনাল মিডিয়ার খবরের ওপরই বেশি আস্থা রাখে।
টাকা বা অর্থের বিনিময়ে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া-নেওয়ার অনুষ্ঠানে নিজের উপস্থিতি প্রসঙ্গে মাহি জলিল বলেন, "সমাজ ও ব্যবস্থার এই অনিয়মগুলো স্বচক্ষে দেখার জন্যই আমি সেখানে গিয়েছিলাম। আমার কথায় বা বক্তব্যে কেউ যদি জেনুইনলি কষ্ট পেয়ে থাকেন, তার জন্য আমি এক্সট্রিমলি সরি। আমার কোনো ভুল থাকলে আপনারা বলবেন, আমি তা সংশোধন করে নেব।"
দায়িত্বরত সাংবাদিকদের নিয়ে একজন মিডিয়া ব্যক্তিত্বের এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের পর এই দুঃখপ্রকাশ ও স্পষ্টীকরণে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও পেশাদার ও অপেশাদার সাংবাদিকদের মধ্যকার সীমারেখা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।