উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ই-রিকশা (ইজিবাইক) চলাচল, নিবন্ধন ও ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার।
রবিবার (১লা নভেম্বর ২০২৬) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই নতুন নীতিমালা ও নিবন্ধন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শহরাঞ্চলের যানজট নিরসন এবং তিন চাকার এই স্বল্পগতির যানবাহনগুলোকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে আনতে এই যুগোপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু । এছাড়াও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
নতুন নীতিমালার প্রধান দিকসমূহ:
নিবন্ধন ও এলাকাভিত্তিক কার্যক্রম: প্রথম পর্যায়ে দেশের সিটি কর্পোরেশন এলাকাগুলোতে এই ই-রিকশার নিবন্ধন ও কার্যক্রম শুরু হবে। তবে এক সিটি কর্পোরেশনে নিবন্ধিত অটোরিকশা অন্য সিটি কর্পোরেশনে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চলাচল করতে পারবে না।
মালিকানা সীমা: শৃঙ্খলা রক্ষার্থে একজন ব্যক্তি বা একটি জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দিয়ে সর্বোচ্চ ৫টি ই-রিকশার নিবন্ধন গ্রহণ করা যাবে।
ফি ও মেয়াদ: যানের ধারণক্ষমতা ভেদে নিবন্ধন ফি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিবছর নিয়মিত ফিটনেস নবায়ন সাপেক্ষে একটি ই-রিকশা সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে।
যাত্রী ও নিরাপত্তা: প্রতিটি ই-রিকশায় যাত্রী পরিবহনের সর্বোচ্চ সীমা ২ থেকে ৪ জন নির্ধারিত থাকবে। নিরাপত্তার স্বার্থে কিউআর কোডযুক্ত নম্বরপ্লেট এবং নির্দিষ্ট গতিসীমা (স্পিড লিমিট) মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা: দুর্ঘটনা রোধে জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস রুট এবং প্রশাসন কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সড়কে এসব যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, এই নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ব্যাটারিচালিত রিকশা খাতের বর্তমান নৈরাজ্য দূর হবে এবং নগরবাসীর যাতায়াত আরও নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব হয়ে উঠবে।