উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
প্রকাশিত হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফল। এ বছর সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ, যা গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ফলাফলের পাশাপাশি কমেছে সর্বোচ্চ জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও; এবার বোর্ডে মাত্র ১ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
আজ শনিবার সকালে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন।
শিক্ষা বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সিলেট বোর্ডে এইচএসসিতে পাসের হার ছিল ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ হাজার ৬০২ জন। সেই তুলনায় এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুটোই কমেছে। এবার সিলেট বোর্ডের অধীনে মোট ৭১ হাজার ৮৯৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল, যা গত বছরের ৬৯ হাজার ১৭২ জনের চেয়ে বেশি।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন জানান, পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি থাকা সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া পরীক্ষা চলাকালে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিকে ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তিনি।
তিনি আরও জানান, সিলেট বিভাগের ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। অন্যদিকে ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হবিগঞ্জের ১টি এবং সুনামগঞ্জের ২টিতে অবস্থিত। শিক্ষার মান ও বোর্ডের সার্বিক ফল উন্নয়নে সামনে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বোর্ডের বিগত বছরগুলোর তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৮৫.৩৯ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭১.৬২ শতাংশ, ২০২২ সালে ৮১.৪০ শতাংশ, ২০২১ সালে ৯৪.৮০ শতাংশ এবং ২০২০ সালে শতভাগ। এর আগে ২০১৯ সালে ৬৭.০৫ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৭৩.৭ শতাংশ, ২০১৭ সালে ৭২ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৬৮.৫৯ শতাংশ, ২০১৫ সালে ৭৪.৫৭ শতাংশ এবং ২০১৪ সালে ৭৯.১৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল।
বোর্ড সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে পরীক্ষার্থীদের অটো পাস দেওয়া হয় এবং বিগত বছরের এসএসসির ফল বিবেচনা করা হয়েছিল। এছাড়া ২০২১ সালে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস এবং জেএসসি-এসএসসির সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত ফলাফল তৈরি করায় পাসের হার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ছিল।