উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মমিনুল ইসলাম মোল্লা:
স্বপ্ন মানুষের জীবনের একটি রহস্যময় বিষয়। ইসলামে স্বপ্নের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পবিত্র কোরআন ও সহিহ হাদিসে নবী-রাসুল ও সাহাবিদের স্বপ্নের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, সুসংবাদ এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ইঙ্গিত পাওয়ার বিবরণ রয়েছে। তবে সব স্বপ্ন এক ধরনের নয় এবং সব স্বপ্নের ওপর নির্ভর করাও সঠিক নয়।
নবীদের স্বপ্ন ওহির অন্তর্ভুক্ত। এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ ইবরাহিম (আ.)-এর কোরবানির স্বপ্ন। তিনি স্বপ্নে দেখেছিলেন, নিজের প্রিয় পুত্র ইসমাইল (আ.)-কে জবাই করছেন। পিতা-পুত্র উভয়েই আল্লাহর নির্দেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে এক কঠিন পরীক্ষা। (সুরা আস-সাফফাত: ১০২–১০৭)।
ইউসুফ (আ.) শৈশবে স্বপ্নে এগারোটি নক্ষত্র, সূর্য ও চন্দ্রকে নিজের প্রতি সিজদা করতে দেখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর জীবনে সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটে। অন্যদিকে মিসরের বাদশাহর সাতটি মোটাতাজা ও সাতটি রোগা গাভির স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিয়ে ইউসুফ (আ.) দুর্ভিক্ষ মোকাবিলার পরিকল্পনা করেছিলেন। (সুরা ইউসুফ: ৪, ৪৩–৪৯, ১০০)।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনেও স্বপ্নের বিশেষ ভূমিকা ছিল। তাঁর কাছে ওহির সূচনা হয়েছিল সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্ন দেখতেন, তা সকালের আলোর মতো সত্য হয়ে প্রকাশ পেত। (সহিহ বুখারি: ৩)।
মক্কা বিজয়ের আগে তিনি স্বপ্নে সাহাবিদের নিয়ে নিরাপদে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করতে দেখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়। (সুরা আল-ফাতহ: ২৭)।
সাহাবিদের মধ্যেও স্বপ্নের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রা.) স্বপ্নে আজানের শব্দ শুনেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর স্বপ্ন অনুমোদন করেন এবং বিলাল (রা.)-কে আজান দেওয়ার নির্দেশ দেন। (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৯)।
আবার আবু হুরায়রা (রা.)-এর কাছে খাদ্য চুরি করতে আসা শয়তান তাঁকে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠের ফজিলত জানিয়েছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বিষয়টি সত্য বলে নিশ্চিত করেন। (সহিহ বুখারি: ২৩১১)।
স্বপ্নের প্রকার ও আমাদের শিক্ষা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, স্বপ্ন তিন প্রকার—আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, শয়তানের পক্ষ থেকে ভয় দেখানো এবং মানুষের নিজের চিন্তাভাবনার প্রতিফলন। (সহিহ মুসলিম: ২২৬৩)।
তিনি আরও বলেছেন, মুমিনের সত্য স্বপ্ন নবুয়তের ৪৬ ভাগের এক ভাগ। (সহিহ মুসলিম: ২২৬৩-এর একটি বর্ণনা; ২২৬৩ফ)।
নবুয়তের প্রথম দিকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে ওহির সূচনা হয়েছিল। তবে সাধারণ মানুষের স্বপ্ন নবীদের ওহির সমান নয়। স্বপ্নের মাধ্যমে নতুন কোনো ধর্মীয় বিধান প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
আমাদের শিক্ষা হলো, ভালো স্বপ্ন দেখলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে হবে, মন্দ স্বপ্ন দেখলে আল্লাহর আশ্রয় চাইতে হবে এবং স্বপ্নের ওপর ভিত্তি করে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। সর্বোপরি, স্বপ্নের চেয়ে কোরআন ও সহিহ সুন্নাহর নির্দেশনাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
লেখক: মমিনুল ইসলাম মোল্লা
মুরাদনগর, কুমিল্লা প্রতিনিধি
শিক্ষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
যাচাইযোগ্য মূল তথ্যসূত্র
১. ইবরাহিম (আ.)-এর স্বপ্ন: কোরআন, সুরা আস-সাফফাত ১০২–১০৭�
২. ইউসুফ (আ.) ও বাদশাহর স্বপ্ন: সুরা ইউসুফ, আয়াত ৪৩�
৩. ওহির সূচনা ও সত্য স্বপ্ন: সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৯৮২�
৪. মক্কায় নিরাপদে প্রবেশের স্বপ্ন: সুরা আল-ফাতহ, আয়াত ২৭।
৫. আজানের স্বপ্ন: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৯৯।
৬. আয়াতুল কুরসি ও শয়তানের ঘটনা: সহিহ বুখারি, হাদিস ২৩১১।
৭. স্বপ্নের তিন প্রকার: সহিহ মুসলিম, হাদিস ২২৬৩�
৮. সত্য স্বপ্ন ও নবুয়তের ৪৬ ভাগের এক ভাগ: সহিহ মুসলিম, হাদিস ২২৬৩ফ�