উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
জেলা প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনায় সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে অবৈধ ফার্মেসী, অননুমোদিত বেকারি পণ্য বিক্রি, অতিরিক্ত মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার মজুদ ও মাদক সেবনের অপরাধে চারজন ম্যাজিস্ট্রেট পৃথক অভিযান চালিয়ে মোট ২ লাখ ৯ হাজার ১০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং একজনকে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।
গত ২৮ অক্টোবর (সোমবার) দিনব্যাপী জেলার সুনামগঞ্জ সদর, জামালগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলায় এসব অভিযান পরিচালিত হয়।
সুনামগঞ্জ শহরে ফার্মেসী ও বেকারিতে জরিমানা:
জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদিত্য পাল সুনামগঞ্জ শহরের উকিলপাড়া ও কাজীর পয়েন্ট এলাকার বিভিন্ন ফার্মেসী ও বেকারীতে অভিযান চালান। এ সময় ওষুধ ও কসমেটিক্স আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩টি মামলায় ৩ জনকে অভিযুক্ত করে মোট ৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এদিকে একই দিন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাকিবুর রহমান। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩৯ ধারা লঙ্ঘন করায় একটি বেকারির মালিককে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া, অননুমোদিত খাদ্যপণ্য সরবরাহ করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী অপর এক দোকানিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং লক্ষাধিক টাকার অননুমোদিত পণ্য জব্দ করা হয়।
জামালগঞ্জে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি ও মজুদ রোধে জরিমানা:
অন্যদিকে, জামালগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শিল্পী রানী মোদক। উপজেলার সাচনা বাজারে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে বিক্রয় এবং অবৈধভাবে মজুদ করার অপরাধে এক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে ধরা হয়। পরে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৫৬-এর ৬ ধারা অনুযায়ী ১টি মামলা দায়ের করে ওই ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
জগন্নাথপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে কারাদণ্ড:
এছাড়াও সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহসীন উদ্দীন জগন্নাথপুর উপজেলায় একটি মাদকবিরোধী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। অভিযানে মাদকদ্রব্য সেবন করার অপরাধে এক ব্যক্তিকে ১০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং ৯০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
জেলা প্রশাসনের এমন সাঁড়াশি অভিযানে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সচেতনতা তৈরি হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।