উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা:
সময়ের পরিক্রমায় বদলে যায় শহর, বদলে যায় নেতৃত্বের পরিচিত মুখ। কিন্তু কিছু মানুষের রাজনৈতিক পথচলা ও কর্মময় জীবনের স্মৃতি দীর্ঘকাল ধরে মানুষের হৃদয়ে অমলিন থাকে। কুমিল্লার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আলহাজ ফরহাদ জামান শাহীন তেমনই এক পরিচিত মুখ, যাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের স্মৃতি আজও অনেক প্রবীণ নাগরিকের মনে দোলা দেয়।
রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসায়িক অঙ্গনেও তাঁর রয়েছে সুপরিচিত পরিচিতি। তিনি স্কাইল্যাব ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যবসা ও রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে মানবসেবা এবং শিক্ষানুরাগের ক্ষেত্রেও তিনি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
পৌর নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সাহসী ভূমিকা
তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হলো ২০০০ সালের তৎকালীন কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ। তৎকালীন সময়ে দলীয় বৃত্তের বাইরে দাঁড়িয়ে এককভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে যাওয়া সহজ ছিল না। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই নির্বাচনে তিনি ৮ হাজার ৯০০ ভোট লাভ করেছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় পরিচয়ের বাইরে থেকে এই ভোট অর্জন তৎকালীন পৌর রাজনীতিতে তাঁর শক্ত অবস্থান ও জনসম্পৃক্ততারই এক স্মরণীয় প্রমাণ।
শিক্ষানুরাগ ও সমাজসেবামূলক উদ্যোগ
ব্যক্তিগত জীবন ও ব্যবসার পাশাপাশি সমাজকল্যাণেও ফরহাদ জামান শাহীনের অবদান প্রশংসনীয়। ২০১৩ সালের ২৪ নভেম্বর জাতীয় একটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর সমাজসেবামূলক উদ্যোগের কথা বিশেষভাবে উঠে আসে। ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, তিনি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাবিজ্ঞানে (এমবিবিএস) উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। বিশেষ করে, ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থীর পড়াশোনার ব্যয় নির্বাহের জন্য তিনি পাঁচ বছর ধরে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন। শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে ও মেধাবীদের পাশে দাঁড়ানোর এমন উদ্যোগ সমাজের প্রতি তাঁর গভীর সামাজিক দায়বদ্ধতারই বহিঃপ্রকাশ।
স্মৃতির আয়নায় সেই সোনালী সময়
একটি নির্বাচনের ফলাফল কেবল কিছু সংখ্যার হিসাব নয়, এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের রাজনৈতিক পরিবেশ, জনদুর্গতি বা প্রত্যাশা এবং প্রার্থীর জনপ্রিয়তার এক জীবন্ত দলিল। ২০০০ সালের সেই পৌর নির্বাচনে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা, ভোটারদের সাড়া এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রজন্ম ও গবেষকদের মাঝে আজও কৌতূহল রয়েছে।
কুমিল্লার প্রবীণ নাগরিক, তৎকালীন ভোটার এবং রাজনৈতিক সহকর্মীদের স্মৃতিচারণ থেকে সেই সময়ের আরও অনেক অজানা ইতিহাস উন্মোচন করা সম্ভব। স্থানীয় রাজনীতি এবং সমাজসেবায় নিবেদিতপ্রাণ এমন ব্যক্তিত্বদের অবদান স্মরণ করা এবং তাঁদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা কুমিল্লার রাজনৈতিক ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।