উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নওগাঁর মহাদেবপুরে প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতে আপন ছোট বোনকে (শ্যালিকা) বিয়ের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার পর অবশেষে স্থানীয় সালিশ বৈঠকে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন অভিযুক্ত শ্যালিকা ও শ্বশুর। এ সময় তারা ভবিষ্যতে এমন ভুল আর হবে না মর্মে স্থানীয় গ্রামবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতি দেন।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়নের নারায়ণপুর (বিরামগ্রাম) গ্রামে মাসুদের শ্বশুরবাড়ির উঠানে এই সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে মাসুদের শ্যালিকা ও দ্বিতীয় স্ত্রী পূর্ণিমা সবার সামনে ভুল স্বীকার করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি জানান, মাসুদের সঙ্গে তার আর কোনো সম্পর্ক থাকবে না এবং টিকটক বা অন্য কোনো অনুষ্ঠানেও তিনি আর অংশ নেবেন না। এলাকাবাসীর কাছে তাকে এলাকা থেকে উচ্ছেদ না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি সাধারণ জীবনযাপনের প্রতিশ্রুতি দেন।
অন্যদিকে, মাসুদের শ্বশুর মান্নান সাপুড়ে সবার কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং কান ধরে ও নাকে মাটি দিয়ে তওবা করেন। তিনি অনুরোধ জানান, যেন তাদের বসতবাড়ি থেকে তুলে দেওয়া না হয়। এ সময় তিনি জানান, তার মেয়েরা আর টিকটক করবেন না এবং তিনিও গান-বাজনার পেশা ছেড়ে পুরোনো সাপুড়ে পেশায় ফিরে যাবেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাইগাঁ ইউনিয়নের সাবেক ২ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আশরাফুল ইসলাম, স্থানীয় মেম্বার আখতার হোসেন, লোকমান রেজোয়ান আরিফসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে নওগাঁর বদলগাছী সদর ইউনিয়নের বৈরাগীপাড়ায় প্রথম স্ত্রী মৌসুমীকে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মাসুদ রানা। গত ২৪ অক্টোবর ওই বাসায় তাদের গায়েহলুদ এবং এর পরদিন ২৫ অক্টোবর প্রথম স্ত্রীর আপন ছোট বোন পূর্ণিমাকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর দুই স্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয় এবং তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
এর জেরে গত সোমবার রাতে স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা টিকটকার ও আইনজীবীর সহকারী মাসুদ রানার মুখে চুনকালি মাখে।