উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
লতিফুর রহমান রাজু.সুনামগঞ্জ:
সুনামগঞ্জ কাচিরগাতি বিশ্বম্ভরপুর সড়কে সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন ৮৬ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার একটি কাজ চলমান রয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের সুত্র মতে ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সেতু ও কালভার্টের নির্মাণ কাজের জন্য জরুরী পূনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় উল্লেখিত সড়কের লালপুর সালাম পুর সেতুর ১ ও ২ এবং ৫ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার ও গার্ডওয়াল নির্মাণ কাজের ঠিকাদার নিযুক্ত হন ইসলাম কন্সট্রাকসন এর বদরুল ইকবাল। ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর বদরুল ইকবাল আওয়ামীলীগ করার কারণে দেশ ছাড়েন। ঐ সময় সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন ২০ কোটি টাকায় কাজটি কিনে নেন। বদরুল ইকবালের সাথে করা চুক্তির সময় বর্তমান সাব ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষী ছিলেন। আজাদ ও শফিকুল শেয়ারে কাজ করছিলেন। এক পর্যায়ে আজাদ হোসেনের সাথে শফিকুলের বিরোধ দেখা দেয়। শফিকুল নানা কৌশল করে আজাদ হোসেন কে বিতাড়িত করেন এবং আজাদ জেল ও খাটেন। পুরো কাজের নিয়ন্ত্রণ নেন শফিকুল।
কাজ ও চলমান রয়েছে। সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের লালপুর এলাকার সেতুর সংযোগ সড়ক প্রশস্তকরণ, গার্ডওয়াল নির্মাণ ও ব্লক স্থাপনের কাজ করছে সড়ক বিভাগ।
নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ হচ্ছে বলে স্থানীয় এমপির কাছে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে নির্মাণকাজে অনিয়ম দেখতে পেয়ে ঠিকাদারকে ভৎর্সনা করেন এমপি৷ কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন সড়ক বিভাগকে৷
এ ও বলেন পরদিন সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে পরিদর্শন করবেন এবং সাব ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম ও যেন উপস্থিত থাকেন।
এর ঘণ্টা না যেতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুলের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন নির্মাণ প্রকল্পের সাব-ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম। রাতেই বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ হয় এমপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির।
বুধবার দুপুরে ফের সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী, দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীকে নিয়ে নির্মাণকাজ এলাকা পরদর্শনে যান সংসদ সদস্য।
এ সময় তিনি বলেন, একটি অনুষ্ঠান থেকে যাওয়ার পথে এলাকাবাসী আমাকে দাঁড় করিয়ে নির্মাণকাজের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করেন। তখন আমি দেখতে পাই সড়কের সদ্য নির্মিত গার্ডওয়াল একদিকে হেলে পড়েছে। ব্লক নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের সামগ্রী। মাটি কমম্পেকশন না করে জিও টেক্সটের ওপর নিম্নমানের ব্লক বসিয়ে সড়কের প্রটেকশন দেওয়া হচ্ছে। ভিট বালুর পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে কৃষি জমির টপ সয়েল৷
তিনি বলেন, এই সড়কটি হাওরের চারটি উপজেলার চলাচলের একমাত্র সড়ক৷ নির্মাণে অনিয়মের কারণে সড়কটি ধ্বসে পড়লে আমার এলাকার জনগণের সীমাহীন ভোগান্তি হবে৷ তাই আমি নির্মাণ কাজ বন্ধ করে অনিয়ম তদন্তে সড়ক বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি৷ ঠিকাদারকে ভৎর্সনা করেছি। কিন্তু এর ঘণ্টা যেতে না যেতেই স্বরষ্ট্রমন্ত্রী বরাবরে আমার বিরুদ্ধে কোটি টাকা চাঁদাবাজ অভিযোগ তোলা হয়েছে৷
এমপি নুরুল বলেন, তারা যদি মনে করে আমার বিরুদ্ধে স্কেন্ডাল রটিয়ে জনগণের পক্ষে কথা বলা থেকে দমানো যাবে, সেটা ভুল ধারণা। আমরা প্রতিটা কাজ সঠিকভাবে আদায় করে নেব৷
তিনি বলেন, আমার এলাকায় নির্মাণকাজে চাঁদাবাজির কোনো নজির নাই। তারা চাঁদা দাবির বিষয়টি প্রমাণ করুক, শাস্তি মাথা পেতে নেব৷ তবে সড়কে নির্মাণ কাজে অনিয়মেরও শাস্তি তাদের পেতে হবে। অপপ্রচারের জবাব দিতে হবে।
তিনি বলেন, গতকাল এই স্পটে আসার কারণে আমার বিরুদ্ধে স্কেন্ডাল রটানো হয়েছে৷ এই কাজ তো আরও আগ থেকে চলমান। আমরা সরকারে এসেছি ৮ মাস হয়েছে। এর আগে তো কারো বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ করেন নাই ঠিকাদার। এখন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই চাঁদাবাজির অভিযোগ।
তিনি বলেন, আমি সড়ক বিভাগকে বলব, এই কাজ শতভাগ আদায় করে নিতে হবে৷ যেহেতু এই প্রতিষ্ঠান সীমাহীন অনিয়ম করছে, এই কাজ ছাড়া তাদের অন্য কোনো কাজ থাকলেও সেগুলো বন্ধ রেখে নির্মাণ কাজের গুনগত মান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগগুলো আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করব। ডিজাইন ইউনিটের সাথে যোগাযোগ করব। উপর থেকে যে নির্দেশনা আসে সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
তিনি আরও বলেন, এখানে মাটির প্রেসার বেশি থাকায় গার্ডওয়াল হেলে গেছে, এটা সঠিক। আমরা বার বার ঠিকাদারকে সতর্ক করেছি যাতে কোনো ধরনের ডিফেকটিভ কাজ না করে। তিন
আরও জানান এই কাজের ফিফটি পার্সেন্ট ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং ৪৩ পার্সেন্ট বিল ও উত্তোলন হয়েছে। আমরা উন্নত মানের সামগ্রীর মাধ্যমে শত ভাগ কাজ করাতে কঠোর ভাবে মনিটরিং করব।
জানা যায়, প্রকল্পের মূল ঠিকাদার বদরুল ইকবাল ৫ আগস্টের পর দেশ ছেড়ে পালান৷ আওয়ামী লীগ আমলে সংস্কার কাজের কার্যাদেশ পাওয়ার পর সাব ঠিকা দেন আওয়ামী লীগের ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ হোসেনকে। স্ট্যাম্পে চুক্তি করে ২০ কোটি টাকা নেন তার কাছ থেকে৷
ব্যবসায়ী ও ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন বলেন, আমি মূল ঠিকাদারকে ২০ কোটি টাকা দিয়ে কাজটি কিনে নেই। আমার সাথে শেয়ার ছিলেন আওয়ামী ঘরনার ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম। চুক্তিতে ১ নম্বর সাক্ষীও ছিলেন শফিকুল৷ এখন সে নানা কৌশলে আমাকে বিতাড়িত করে জেল ও খাটিয়েছে। আমি এর প্রতিকার চাই।