উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে চালুর লক্ষ্য থাকলেও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি নিয়ে জটিলতা কাটছে না। নির্মাণকাজ প্রায় শেষ এবং ঋণের কিস্তি শুরু হলেও কঠিন চার শর্তে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে দরকষাকষি আটকে গেছে। পরিচালনায় বিকল্প কোনো অপারেটর না রাখায় চূড়ান্ত আলোচনায় বাংলাদেশ কিছুটা দুর্বল অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দুই বছরে ২০টির বেশি বৈঠক করেও সমঝোতায় পৌঁছাতে না পেরে বিষয়টি এখন সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রেখেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
অমীমাংসিত ৪ শর্ত ও মূল জটিলতা:
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে অমীমাংসিত থাকা চারটি প্রধান শর্তের মধ্যে রয়েছে—
১. গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও ঝুঁকি বণ্টন: গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের সার্বিক দায়দায়িত্ব ও ঝুঁকি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ওপর রাখার প্রস্তাব দেওয়া হলেও, এর আর্থিক সুবিধা, ব্যয় পরিশোধ এবং ক্ষয়ক্ষতির দায় বণ্টনের বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। এছাড়া যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে দায়দায়িত্বের মেয়াদ ৬ মাসের পরিবর্তে ১২ মাস পর্যন্ত দাবি করছে জাপানি পক্ষ।
২. রাজস্ব ভাগাভাগি: চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে ২৭ শতাংশ রাজস্ব দেওয়ার কথা থাকলেও, অপারেশনাল প্রস্তুতির প্রথম আট মাসে তা কমিয়ে মাত্র সাড়ে ১৩ শতাংশ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে জাপানি পক্ষ।
৩. আইনি সুরক্ষা: ভবিষ্যতে সরকার কোনো সাধারণ আইন প্রণয়ন বা বিদ্যমান আইন সংশোধন করলে তা যেন এই কনসোর্টিয়ামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না হয়—এমন বিশেষ আইনি সুবিধা ও দায়মুক্তি দাবি করেছে জাপানি পক্ষ। অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রচলিত আইন বহাল রাখার পক্ষে অনড়।
৪. ত্রুটি সংশোধনের সময়সীমা (ডিএলপি): প্রজেক্টের ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড বা ত্রুটি সংশোধনের দায়বদ্ধতার সময়সীমা বাংলাদেশ ৯ মাস রাখতে চাইলেও জাপানি পক্ষ তা ১২ মাস করার দাবি জানিয়েছে।
উদ্বোধনী দিনের ফ্লাইট সংখ্যা নিয়েও মতপার্থক্য:
টার্মিনাল চালুর প্রথম দিন কতটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে, তা নিয়েও দুপক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। বেবিচক প্রথম দিন অন্তত ১০টি নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করতে চাইলেও, জাপানি পক্ষ মাত্র চারটি (দুটি আগমন ও দুটি বহির্গমন) ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত:
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, "শুরু থেকেই বিকল্প কোনো আন্তর্জাতিক অপারেটরের ব্যবস্থা না রাখায় দরকষাকষিতে আমাদের অবস্থান দুর্বল হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে টার্মিনাল চালু করা জরুরি হলেও, তাড়াহুড়ায় দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা ঠিক হবে না। দেশের স্বার্থ ও অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চুক্তি করতে হবে।"
মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ:
বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) আবু সাঈদ মেহবুব খান জানান, জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনা শেষ পর্যায়ে হলেও কিছু নতুন শর্তের কারণে সরকারের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং সবুজ সংকেত পেলে চুক্তি চূড়ান্ত করা হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, "১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধনের লক্ষ্যে আমরা কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। যত দ্রুত সম্ভব চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে এবং জাতীয় স্বার্থকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।"
আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং অর্থ মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।