উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানের শিকার হয়েছেন কুমিল্লার সন্তান, দীর্ঘদিনের প্রবাসী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক এনামুল হক এনাম (৬৪)। গত ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নিউইয়র্কের বাফেলো থেকে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)-এর অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
আইবিএননিউজ ও বাপসনিউজ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে আসলেও নানা জটিলতার কারণে এনামুল হকের গ্রিন কার্ড বা বৈধ কাগজপত্র হয়নি। অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে তাকে গ্রেফতার করা হলেও তিনি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তার গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করে অভিবাসন বিষয়ক আইনজীবী এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মঈন চৌধুরী বাপসনিউজকে জানান, অভিবাসনের মামুলি বিধি লঙ্ঘন ব্যতিত এনাম সাহেব আর কোনো অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন না। মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী শুধু গুরুতর অপরাধীরাই নয়, বরং অসহায় ও নিরপরাধ অভিবাসীরাও এই ধরপাকড়ের শিকার হচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এনামুল হক একজন সক্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে গত কয়েক দশকে বেশ কিছু তারকা শিল্পীকে স্পন্সর করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছেন এবং সেখানে সফল অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছেন। তার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া অনেক শিল্পী পরবর্তীতে গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্ব পেলেও কপালে স্থায়ী আইনি স্বীকৃতি জোটেনি এনামুল হকের।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ধরপাকড়ের আতঙ্কে শুরুর দিকে নিউইয়র্ক সিটি ছেড়ে ভার্জিনিয়ায় আশ্রয় নেন তিনি। সেখানেও নিরাপত্তা না পেয়ে প্রায় তিন বছর আগে বাফেলোতে চলে যান এবং ট্যাক্সি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। গত শুক্রবার ট্যাক্সি চালানো অবস্থায়ই আইস সদস্যরা তাকে আটক করেন।
অভিবাসী আইনজীবী মঈন চৌধুরী আরও জানান, গত কয়েক মাসে বাফেলো থেকে ডজন দুয়েক বাংলাদেশি সহ চার শতাধিক অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। যার ফলে স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটিতে চরম অস্বস্তি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর শুধু নিউইয়র্ক স্টেট থেকে ৭ হাজারের অধিক অভিবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া সারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে গ্রেফতারের সংখ্যা ৫ লাখ ৯৫ হাজার এবং প্রায় ২৫ লাখ মানুষ স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছেন। অভিবাসী অধিকার নিয়ে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার অভিযোগ, গ্রেফতারকৃতদের ৮৫ শতাংশের বিরুদ্ধেই কোনো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার রেকর্ড নেই। নির্বিচারে এই গ্রেফতারের ঘটনা প্রবাসীদের জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।