উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
হোসেন মনির:
কুমিল্লার কৃতি সন্তান, উদীয়মান ও প্রতিভাবান অভিনেতা সালমান জন নিজের বহুমুখী অভিনয় প্রতিভা দিয়ে জয় করে চলেছেন ছোট পর্দা, মঞ্চ ও চলচ্চিত্রাঙ্গন। নতুন চৌধুরীপাড়া, বাগিচাগাঁওয়ের এই তরুণ অভিনেতা আজ তার কাজের সুবাদে বিনোদনপ্রেমী দর্শকের কাছে এক পরিচিত মুখ। অভিনয় ও সংস্কৃতির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা তাঁকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়।
যেভাবে শুরু সাংস্কৃতিক পথচলা
অভিনয়ের প্রতি প্রবল টানে কুমিল্লার সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকেই সালমান জনের যাত্রা শুরু। তাঁর ভাষায়, তাঁর অভিনয়ের হাতেখড়ি হয়েছিল কুমিল্লার জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠন 'বিল্লাল মিডিয়া'-র মাধ্যমে। এরপর তিনি যুক্ত হন 'জে এন ফিল্ম প্রোডাকশন'-এর সাথে, যেখানে বিভিন্ন স্টেজ শো ও নৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নেন। পরবর্তীতে কুমিল্লার স্বনামধন্য নাট্যগোষ্ঠী 'জয়নান্তিক নাট্য গোষ্ঠী'-র ব্যানারে ১৯৭১ সালের পটভূমিতে নির্মিত প্রশংসিত মঞ্চনাটক '১৯৭১'-এ অভিনয় করে নাট্যমোদীদের নজর কাড়েন।
বড় পর্দায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রে সাফল্য
সালমান জনের অভিনয় জীবনের সবচেয়ে বড় ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হলো ২০২৩ সালের জুন মাসে মুক্তিপ্রাপ্ত সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্র 'ফিরে দেখা'। গুণী চিত্রনায়িকা রোজিনা পরিচালিত এবং তাঁরই চিত্রনাট্যে নির্মিত এই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবিটি ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারি অনুদান পায়। গোয়ালন্দ উপজেলার কুমড়াকাধি গ্রামের একটি পরিবার ও পরিচালকের ব্যক্তিগত স্মৃতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে ছবিটির মূল কাহিনী। এই ছবিতে দীর্ঘ ১৪ বছর পর চিত্রনায়িকা রোজিনার বিপরীতে বড় পর্দায় অভিনয় করেন বরেণ্য অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন।
এই ছবিতে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার চরিত্রে অভিনয় করে দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন সালমান জন। চলচ্চিত্রে তাঁর চরিত্রের নাম ছিল 'নরেশ'। একজন মুক্তিযোদ্ধার পোশাকে ও মননে তাঁর জীবন্ত অভিব্যক্তি দর্শকদের হৃদয়ে গভীর দাগ কেটেছে।
ছোট পর্দা ও ডিজিটাল মিডিয়ায় নিয়মিত উপস্থিতি
শুধু বড় পর্দায় নয়, ছোট পর্দা এবং ডিজিটাল মিডিয়াতেও সমান তালে কাজ করে চলেছেন সালমান জন। এটিএন বাংলার জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান 'বি পজেটিভ'-এ নিয়মিত অভিনয় করে আসছেন তিনি। পাশাপাশি পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এটিএন বাংলার বিশেষ বৈশাখী আনন্দ অনুষ্ঠানে এবং চ্যানেল আই-এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান 'কৃষকের ঈদ আনন্দ'-এ নিয়মিত পারফর্ম করে দর্শকদের বিনোদিত করছেন।
এছাড়া ইউটিউব প্ল্যাটফর্মেও তাঁর সরব উপস্থিতি রয়েছে। 'মুন্না খান মাল্টিমিডিয়া'র ব্যানারের জনপ্রিয় মিউজিক ভিডিও 'ধান্দাবাজের দুনিয়া'-তে মডেল হিসেবে কাজ করে তিনি তরুণ প্রজন্মের মাঝেও বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন। পাশাপাশি 'সিএ কমেডি টিভি'সহ বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলে কৌতুক অভিনেতা হারুন কিসিঞ্জার, চিকন আলীসহ দেশের অনেক নামী শিল্পীর সাথে হাস্যরসাত্মক ও ভিন্নধর্মী নাটকে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
পারিবারিক অনুপ্রেরণা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা
মোঃখ শাহজাহান হিটলার ও পরিবারের উৎসাহ এবং আশীর্বাদ নিয়ে সামনের দিনে আরও ভালো ও মানসম্মত কাজ উপহার দিতে চান সালমান জন। সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও সহকর্মীদের সহযোগিতায় তিনি বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম অঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করতে বদ্ধপরিকর। বিনোদনপ্রেমী দর্শকদের মাঝে তাঁর এই ধারাবাহিক সাফল্য আগামী দিনে তাঁকে আরও বহুদূর নিয়ে যাবে—এমনটাই প্রত্যাশা শুভানুধ্যায়ীদের।
নিজের কাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সালমান জন বলেন, "অভিনয় আমার ধ্যায়ন-জ্ঞান। কুমিল্লা থেকে শুরু হওয়া আমার এই পথচলা দর্শকদের ভালোবাসায় আজ এতদূর এসেছে। বিশেষ করে 'ফিরে দেখা' চলচ্চিত্রে একজন মুক্তিযোদ্ধার চরিত্রে রূপদান করা আমার জীবনের অন্যতম বড় অনুভূতি। আগামীতেও কাজের মাধ্যমে দেশীয় সংস্কৃতি ও শুভ কলার বিকাশ ঘটাতে চাই।"
কুমিল্লার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা মনে করেন, নিষ্ঠা ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে সালমান জন আগামী দিনে বাংলাদেশের অভিনয় জগতে আরও বড় স্থান করে নেবেন এবং কুমিল্লার নাম উজ্জ্বল করবেন।