উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ফ্রান্সের চলমান অস্থিরতা ও সহিংসতার জন্য ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর শিথিল অভিবাসন নীতিকে দায়ী করে তীব্র আক্রমণ চালিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের দাবি, অবাধ অভিবাসন এভাবে চলতে থাকলে প্যারিস খুব দ্রুত একটি ‘মুসলিম নগরী’তে পরিণত হতে পারে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “প্যারিস খুব শিগগিরই একটি মুসলিম নগরী হতে চলেছে, আর এমনটি হওয়ার কথা ছিল না। আপনি পুরো বিশ্ব থেকে মানুষের ঢোকার পথ খুলে দিয়েছেন এবং সারা পৃথিবীর মানুষ সেখানে চলে আসছে।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ফরাসি সীমান্ত উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে তিনি বহু আগেই ম্যাক্রোঁকে সতর্ক করেছিলেন। তাদের প্রথম সাক্ষাৎ স্মরণ করে ট্রাম্প বলেন, “আমি তাকে আট বা নয় বছর ধরে চিনি। প্রথম দেখা হওয়ার সময়ই তাকে বলেছিলাম—আপনি একটা বিরাট ভুল করছেন। আমরা আমাদের সীমান্ত বন্ধ রেখেছি, কিন্তু তিনি তা করেননি।”
উত্তপ্ত ফ্রান্স ও প্রশাসনিক সংকট
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ফ্রান্সজুড়ে তীব্র অস্থিরতা ও রাজনৈতিক বিতর্ক চরম আকার ধারণ করেছে। দেশটির একাধিক শহরে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলন সহিংস রূপ নিয়েছে। সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ, দোকানে লুটপাট এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যগুলোতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই হিমশিম খাচ্ছে ফরাসি পুলিশ ও কর্তৃপক্ষ। এসব বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে গিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার নিরাপত্তা সদস্য আহত হয়েছেন এবং সহস্রাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের কঠোর আইনি পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। দেশটিতে এখনও আনুষ্ঠানিক জরুরি অবস্থা জারি করা না হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন।
অভিবাসন বিতর্ক ও বিশ্লেষণ
ট্রাম্প এই সংকটকে সরাসরি অভিবাসন নীতির ফল হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করলেও বিশ্লেষকরা পরিস্থিতিকে আরও বিস্তৃত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন। তাদের মতে, কেবল অভিবাসন নীতিই এই সংকটের একমাত্র কারণ নয়। অর্থনৈতিক মন্দা, জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ, সরকারি সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ—সবকিছু মিলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ডানপন্থি রাজনীতিবিদরা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার জোর দাবি জানালেও ফ্রান্সের মূল সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটগুলো নিরসনে গভীর আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।