উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
"আমি আমার বাবার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। ভবিষ্যতে আমাদের মতো যেন কাউকে এই শিশু বয়সে বাবা হারা হতে না হয়। আমাদের বাঁশঝাড় থেকে বাবা দুইটা বাঁশ কাটতে গিয়েছিলেন। ঘাতকরা আমার বাবাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে, পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে চোখের সামনে হত্যা করল। আমি আমার ২৬ মাস বয়সী ছোট ভাই সামিউলকে নিয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে দেখেছি, বাবাকে আর না মারতে অনুরোধ করেছি, কিন্তু ঘাতকরা আমার বাবাকে মেরেই ফেলল।"
কুমিল্লার দেবীদ্বারে হত্যা ও ধর্ষণচেষ্টা মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে এসব কথা বলেন,- উপজেলার বারুর গ্রামে বাশঁ কাটা নিয়ে বিরোধের জের ধরে হত্যার শিকার দিনমজুর সহিদুলের ৯ বছরের শিশু কণ্যা সাদিয়া আক্তার।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযুদ্ধ চত্বরের 'স্বাধীনতা স্তম্ভের' পাদদেশে ভূমিহীন সংগঠন ও এলাকাবাসীর আয়োজনে ওই বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে, সকাল সাড়ে ১০টায় দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাব থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্বাধীনতা স্তম্ভের পাদদেশে এসে মানববন্ধনে মিলিত হয়।
মানববন্ধন চলাকালে ভূমিহীন সংগঠনের নেতা আব্দুল ওয়াদুদ’র সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি পরেশ কর, বাঁশ কাটা নিয়ে প্রতিপক্ষের হাতে খুন হওয়া বারুর গ্রামের দিনমজুর সহিদুল ইসলামের স্ত্রী নারগিস আক্তার(৩৫), নিহতের ছেলে ইমন(১৬), শিশু কণ্যা সাদিয়া আক্তার(৯), ভূমিহীন নেতা লিল মিয়া, তজু মিয়া, রমিজ উদ্দিন প্রমূখ।
নিহতের ছেলে ইমন আহমেদ বলেন, আমার বাবা হত্যার বিচার চেয়ে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ আমাদের মামলা না নিয়ে তাড়িয়ে দেয়। পরে মামলা নিলেও ভাংতুরের অভিযোগে প্রতিপক্ষের মিথ্যা মামলাও গ্রহন করেন। যে মামলায় ঘটনাস্থলে ছিলনা এমন নিরীহ লোকদেরও মামলায় জড়ানো হয়। মামলার অন্যতম আসামী নিশাদ এখনো মালা তুলে নিতে আমাগের জীবন নাশের হুমকী গিয়ে আসছে। তাকে দ্রুত গ্রেফতারসহ সকল হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।
নিহতের স্ত্রী নারগিস আক্তার(৩৫) বলেন, আমার চোখের সামনে আমার স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যা করল, আমার স্বামীকে আমার সন্তানদের দিকে তাকিয়ে জীবনটা রক্ষার অনুরোধ করেও রক্ষা করতে পারি নাই। এখন আমি এ এতিম শিশু নাবালক সন্তানদের কিভাবে ভরন পোষনে বাঁচিয়ে রাখব?
বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি পরেশ কর বলেন, দেবীদ্বারে একের পর এক, হত্যা- হত্যার চেষ্টা, ধর্ষণ- ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘটছে। অভিযুক্তদের অনেকেই গ্রেফতার এড়িয়ে হত্যা ও ধর্ষণ মামলার আসামীরা মামলা প্রত্যাহারে বাদীপক্ষকে হুমকী দিয়ে আসছে। প্রশাসনের নজরদারীর অভাবেই অপরাধীরা অপরাধ সংগঠনের সুযোগ পাচ্ছে।
উল্লেখ্য গত ১ অক্টোবর উপজেলার বারুর গ্রামের বাশঁকাটা কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের লিমন, লিমনের ভাই নজরুল ইসলাম এবং নজরুল ইসলামের ছেলে নিশাদ। লিমন ও নজরুল গ্রেফতার হলেও লিমন এখনো পলাতক রয়েছে। অপর দিকে গত ৫ আগস্ট উপজেলার কুরুইন গ্রামের মাজহারুল ইসলাম(২৫) নামে এক যুবক চকলেট দেয়ার কথা বলে একটি পরিত্যাক্ত ঘরে নিয় ৫ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা হলেও এখনো ধরা ছোঁয়ার বাহিরে।
এ ব্যপারে দেবীদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, দিনমজুর সহিদুল ইসলাম হত্যা মামলায় অভিযুক্ত তিন আসামীর মধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, অপরজনকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। এছাড়াও ৫ বছর বয়সী শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযুক্তকেও গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আথে।