উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বরগুনার পাথরঘাটায় চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও কিশোর গ্যাং দমনে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে চরম হুঁশিয়ারি ও কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মনি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন। এ সময় মঞ্চে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আলীম উপস্থিত ছিলেন।
ওসিকে উদ্দেশ্য করে চিফ হুইপ বলেন, “চাঁদাবাজির কোনো স্থান পাথরঘাটায় নেই। ওসি সাহেব, আপনাকে আমি পরিষ্কার বলে দিচ্ছি—হয় চাঁদাবাজ থাকবে, না হয় আপনি থাকবেন। এই এলাকায় কোনো সন্ত্রাসী ও দখলবাজ থাকতে পারবে না।”
কিশোর গ্যাং কালচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, “আগামী দুই মাসের মধ্যে এলাকা থেকে কিশোর গ্যাং নির্মূল করতে হবে। অন্যথায় আপনি এই পদে থাকতে পারবেন না। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ধরে ঝুলিয়ে দেওয়ার মতো কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে অপরাধীরা রেহাই না পায়।”
নিজের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির বিষয়ে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, “আমার নাম ব্যবহার করে আউয়াল নামের এক ব্যক্তি একাধিক জায়গায় চাঁদা আদায় করেছে। অভিযুক্ত আউয়ালসহ তাঁর সঙ্গীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনুন। রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, অপরাধীদের কোনো দল নেই।”
সভায় সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “কেউ আমার নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি বা দালালি করার চেষ্টা করলে আমাকে সরাসরি মেসেজ দিয়ে জানাবেন। আমি নিজে মেসেজ দেখে ব্যবস্থা নেব। বিশেষ করে থানায় কোনো প্রকার দালালি চলবে না।”
উপকূলীয় অঞ্চলের ইলিশ ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে চিফ হুইপ বলেন, “ম্যাজিস্ট্রেট চলে যাওয়ার পর রাত ১২টার পর অবৈধ ট্রলিং ট্রলার চালু হয় এবং বরফ কল থেকে বরফ সরবরাহ করা হয়। বাংলাদেশের অন্য কোথাও হলেও পাথরঘাটায় অবৈধ ট্রলিং চলতে দেওয়া হবে না।”
সভায় তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রান্তিক কৃষক ও জেলেদের ভাগ্যোন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধান ও স্বাবলম্বী করার ভাবনা থেকেই সরকার প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
সভায় পাথরঘাটা উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা, কোস্টগার্ড প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।