উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ঢাকা: সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে লক্ষ্য করে অব্যাহত হয়রানি, অনলাইন অপপ্রচার এবং ব্যক্তিগত হুমকির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার সরকারের ১২ জন সাবেক উপদেষ্টা। মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ ঘটনার কঠোর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) বিমানবন্দরে সম্প্রতি ড. ইউনূসকে হেনস্তা করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাবেক উপদেষ্টাদের এই যৌথ বিবৃতি এলো।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী সাবেক ১২ জন উপদেষ্টা হলেন— সালেহউদ্দিন আহমেদ, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, সিআর আবরার, আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান খান, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সাখাওয়াত হোসেন, ফারুক-ই-আজম, ফরিদা আখতার, শারমিন এস মুরশিদ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
যৌথ বিবৃতিতে সাবেক উপদেষ্টারা বলেন, “বছরের পর বছর লাগামহীন অর্থনৈতিক লুটপাট, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ধ্বংসসাধন, দুর্নীতি, পদ্ধতিগত দমন-পীড়ন এবং ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে দেশ যখন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল, তখন দেশ পুনর্গঠনের কঠিন দায়িত্ব সামলেছে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারই ফ্যাসিবাদী শাসনামলের নিয়মিত ঘটনা— গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অবসান ঘটিয়েছিল।”
তারা আরও উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত সরকারের কাছে সফলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে। উদ্দেশ্য ছিল— গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, স্বৈরাচারের ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার রক্ষার ধারা অব্যাহত রাখা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতিতে বলা হয়, “গভীর অনুতাপের সঙ্গে আমরা লক্ষ করছি, কিছু রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত ও স্বার্থান্বেষী মহল নিয়মিতভাবে অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করার হুমকি দিচ্ছে। দেশ অস্থিতিশীল করা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে পরিচালিত এসব কাপুরুষোচিত কৌশলের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।”
যতই ভয় দেখানো বা অপপ্রচার চালানো হোক না কেন, ‘জুলাই প্রতিশ্রুতি’র পরিবর্তনগুলোর প্রতি তাদের সংকল্প তিলপরিমাণও টলবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সাবেক উপদেষ্টারা।
উল্লেখ্য, গত সোমবার নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে হুইলচেয়ারে করে বের হওয়ার সময় ড. ইউনূসের দিকে ধাওয়া করে উচ্চস্বরে স্লোগান ও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবাসী সমর্থকের বিরুদ্ধে, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।