উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনী, ব্যারিকেড ও ধরপাকড়ের মধ্যেই এবার প্রতিবাদের ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তবে আন্দোলনকারীদের সাফ বার্তা—স্থান বদলালেও লড়াই থামবে না, প্রয়োজনে পুরো দেশকেই যন্তর মন্তরে পরিণত করা হবে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরকে বাদ দিয়ে রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দানকে বিকল্প প্রতিবাদস্থল হিসেবে নির্ধারণ করেছে। প্রশাসনের দাবি, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা ও নিরাপত্তার সুবিধার্থেই এই সিদ্ধান্ত। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় দিল্লির মূল রাজনৈতিক কেন্দ্র থেকে দূরবর্তী এলাকায় আন্দোলন সরিয়ে দিয়ে প্রতিবাদের প্রভাব ও জনসমর্থন ম্লান করার চক্রান্ত চলছে।
সোমবার ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও বিরোধী শিবিরের বিক্ষোভ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর)-এর নামে বিপুল মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন সিজেপির অভিজিৎ দীপক, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা।
শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের স্থান ও সময় চূড়ান্ত করতে দিল্লি পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে সিজেপি। সৌরভ দাস বলেন, "শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। তা থামানো যাবে না।" ১০ অক্টোবরের গণ-ধরপাকড়ের পরও আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবিতে অনড় রয়েছেন।
এদিকে, আন্দোলনের আঁচ পৌঁছেছে ভারতের বিচারবিভাগেও। সোমবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে সহ বিরোধী নেতারা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে চেয়েছিলেন। তবে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আবেদন জানানোর বার্তা দেওয়া হয় এবং সরাসরি সাক্ষাৎ ঘটেনি।
নির্বাচন কমিশন অবশ্য সমস্ত অনিয়ম ও পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সব মিলিয়ে প্রশাসনের নিরাপত্তা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ এবং আন্দোলনকারীদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে দিল্লিতে এখন প্রবল রাজনৈতিক উত্তাপ বিরাজ করছে।