উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে উন্নত চিকিৎসার আশায় এসে স্টাফ নার্স ও কর্মচারীদের হাতে নৃশংস মারধরের শিকার হয়েছেন এক রোগীর স্বজনরা। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন রোগীর শ্বশুর, শাশুড়ি ও শ্যালক। ঘটনার সঠিক তদন্ত ও সুবিচারের দাবিতে শাহবাগ থানায় পাঁচ কর্মচারীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে কুমিল্লার তিতাস থেকে মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত রোগী ইয়াকুবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর রাত ৮টা থেকে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও চিকিৎসা শুরু হয়নি। রাত সাড়ে ১১টার দিকে যন্ত্রণায় কাতর ইয়াকুব দ্রুত চিকিৎসার আকুতি জানালে দায়িত্বরত স্টাফরা তাকে ধরে ৪ নম্বর কক্ষের ভেতরে নিয়ে গালিগালাজ ও ধাক্কাধাক্কি করেন।
পরবর্তীতে ইয়াকুবকে বাঁচাতে এবং দীর্ঘ অপেক্ষার প্রতিবাদ করায় তার শ্বশুর মো. আসাদুল্লাহর (৫৯) নাকে সজোরে ঘুসি মেরে নাক ফেটে রক্তাক্ত করা হয়। এ সময় তার শ্যালক সিয়াম হোসেনকে মাটিতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় এবং সন্তানকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে শাশুড়ি মমতাজ বেগমের মাথায় স্টিলের পাইপ দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করা হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, হাসপাতালের কর্মীরা কাঁচি ও ধারালো বস্তু উঁচিয়ে তাদের ধাওয়া করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ঘটনার পরদিন রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে ঢামেক প্রশাসনিক ভবনে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না দেখে তারা আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে স্টাফ নার্স তুহিন, কর্মচারী জাকির হোসেন, তিতাস হোসেন, মো. সালাম ও অফিস সহকারী জাকির হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে শাহবাগ থানার এসআই মনিরুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায়িত্বশীল বক্তব্য না দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোন ও খুদে বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।