উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
শরতের বিদায়লগ্নে প্রকৃতিতে বইতে শুরু করেছে শীতের মিষ্টি আগমনী বার্তা। ভোরের ঘন কুয়াশা, শিশিরভেজা মেঠোপথ আর হালকা শীতল বাতাসের সঙ্গে চুয়াডাঙ্গাজুড়ে শুরু হয়েছে শীতকালীন ব্যস্ততা। জেলার মাঠে মাঠে এখন গাছিদের খেজুরগাছ পরিচর্যা ও রস আহরণের প্রস্তুতি চোখে পড়ার মতো।
চুয়াডাঙ্গার চার উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, হাতে ধারালো দা আর কোমরে সরঞ্জামের থলে বেঁধে গাছিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। নিপুণ হাতে গাছের পুরনো ছাল ও শুকনো ডালপালা পরিষ্কার করে চাঁচা-ছোলা করে রস আহরণের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। আর মাত্র কয়েক সপ্তাহের অপেক্ষা; এরপরই গাছে গাছে ঝুলবে মাটির হাঁড়ি, শুরু হবে সুস্বাদু খেজুরের রস সংগ্রহ।
গাছিদের প্রক্রিয়াজাত করা সেই রস বিশেষ আগুনে জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হবে বিখ্যাত নলেন গুড় ও পাটালি। গুণগত মান ও স্বাদের জন্য খ্যাতি থাকা এই গুড় চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় চাহিদার গণ্ডি পেরিয়ে পৌঁছে যাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় বর্তমানে প্রায় ২ লাখ ৭১ হাজার ৯৬০টি খেজুরগাছ রয়েছে। চলতি মৌসুমে এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত মৌসুমেও সমপরিমাণ গুড় উৎপাদিত হয়েছিল, যা থেকে প্রায় ৭৫ কোটি টাকার বিশাল অর্থনৈতিক লেনদেন ও ব্যবসা পরিচালিত হয়।
ঐতিহ্যবাহী এই মৌসুমি পণ্যকে কেন্দ্র করে গাছি, স্থানীয় কৃষক এবং ব্যবসায়ীদের মাঝে এবারও নতুন করে অর্থোপার্জনের আশা ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। গুড় উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ নির্বিঘ্ন রাখতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।