উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ১৩ জন নিরস্ত্র সেনাকে গুলি করে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে। একই সাথে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার (লাইভস্ট্রিম) করে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই সুপারিশে অনুমোদন দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সেক্রেটারি আগামী ৩ ডিসেম্বর এই সাজা কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম 'রিয়েল আমেরিকাস ভয়েস'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ বলেন, "আমরা নিশ্চিত করব যেন মানুষ এটি দেখতে পারে। মানুষের বোঝা উচিত, এ ধরনের অপরাধের পরিণতি কতটা কঠোর হতে পারে।"
যদি এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি হবে গত প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা। এর আগে ১৯৬১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ সামরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। আর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে সামরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা ঘটেছিল ১৯৪৫ সালে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়।
আইনি জটিলতা ও অনিশ্চয়তা
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিশিষ্ট আইনজীবী জন মিলস এই পদক্ষেপকে ‘আধুনিক যুগে নজিরবিহীন’ এবং আইনগতভাবে অনিশ্চিত বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, নিদাল হাসানের আপিল প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। তিনি কেন্দ্রীয় আদালতে এটি পর্যালোচনা করার আবেদন জানাতে পারেন, যার ফলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত হয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
ইয়েল ল স্কুলের ভিজিটিং লেকচারার ইউজিন আর ফিডেল বিষয়টিকে ‘মধ্যযুগীয় বর্বরতা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে এটি আদালতের টেবিলেই বছরের পর বছর ঝুলে থাকতে পারে।
সম্প্রচার নিয়ে সংশয়
যদিও প্রকাশ্যে সাজা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তবে লাইভস্ট্রিমটি কোথায় সম্প্রচারিত হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। মেটা (ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম) এবং টিকটকের নীতিমালা অনুযায়ী যে কোনো সহিংসতার লাইভস্ট্রিমিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ফলে এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি রাজনৈতিক ও প্রচারণামূলক উদ্যোগ নাকি বাস্তবে রূপ নেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ফোর্ট হুডের এক জনাকীর্ণ ভবনে হামলা চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যার কথা নিদাল হাসান স্বীকার করেছিলেন। ২০১৩ সালে সামরিক আদালতে বিচার শেষে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।