উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানায় বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া সদস্যদের মধ্যে একজন উপপরিদর্শক (এসআই), দুজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এবং একজন কনস্টেবল রয়েছেন। পর পরপর এসব ঘটনায় থানাটির দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্ন ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সর্বশেষ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে এএসআই অতনু বণিককে চুনারুঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এক ব্যক্তিকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এর আগের দিন সোমবার (৫ অক্টোবর) অপর এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনকে প্রত্যাহার করা হয়। সম্প্রতি উপজেলার রানীগাঁও বাজারে একটি মামলার তদন্তে গিয়ে এক ব্যক্তির সাথে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি বলেন, “আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুসের টাকা দিয়ে, ঘুস খাওয়ার জন্যই।” স্থানীয় এক ব্যক্তির মুঠোফোনে ধারণ করা সেই বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাকে থানায় ক্লোজড করা হয়।
এছাড়া, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ইয়াবা দিয়ে একটি নির্দোষ পরিবারকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগে এসআই মাসুম আল-মামুন ও কনস্টেবল রহুল আমীনকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চুনারুঘাট উপজেলার কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়া (৫০), তার মেয়ে জাসমিন আক্তার (২৪) ও ভাই ইউনুস মিয়ার (৪৫) সঙ্গে প্রতিবেশীদের দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে ২৪ সেপ্টেম্বর ওই পরিবারটিকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার দেখিয়ে ফাঁসানোর চক্রান্তের অভিযোগ উঠলে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে এই দুই সদস্যকে ক্লোজড করা হয়।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. রাফিউর রহমান জানান, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থেই আপাতত তাদেরকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বল্প সময়ের মধ্যে একই থানার চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, বিতর্কিত বক্তব্য এবং মাদক দিয়ে ফাঁসানোর মতো মারাত্মক অভিযোগ ওঠায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তবে পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।