উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল সিরিজের বিএমজে ওপেন জার্নালে সম্প্রতি একটি গবেষণা প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। ট্রপিক্যাল ডিজিজ অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন এবং পাই রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণে চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ পেশাগত অবসাদে ভুগছেন। ৭০৩ প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকের ৭০ শতাংশের মধ্যে পেশাগত অবসাদ পাওয়া গেছে, একইসঙ্গে ৯৪ দশমিক ৭ শতাংশ চিকিৎসকের মধ্যে রয়েছে পেশাগত সন্তুষ্টির ঘাটতি। গবেষণায় অংশ নেওয়া চিকিৎসকদের গড় বয়স ৩১। তাদের ৫৬ শতাংশই নারী। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ৬৮ দশমিক ৩ শতাংশ চিকিৎসকের মধ্যে তীব্র মানসিক ক্লান্তি রয়েছে, ৫৮ শতাংশের মধ্যে রোগী অথবা কাজের প্রতি মানসিক দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। অর্ধেকের বেশি চিকিৎসক তাদের বর্তমান প্রশিক্ষণ নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
বলা বাহুল্য, আলোচ্য গবেষণার ফলাফল মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। রোগীর যথাযথ চিকিৎসাদানের সঙ্গে চিকিৎসকের মানসিক অবস্থার যথেষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। চিকিৎসকরা যদি অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন, তাহলে তাদের পক্ষে নির্ভুল চিকিৎসা প্রদান করা কঠিন হয়ে পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। অবসাদগ্রস্ততাকে প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকের শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা হিসাবে দেখলে ভুল হবে। সমস্যাটা আমাদের পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থারও বটে। এ সমস্যা দূর করতে হলে কর্মপরিবেশ, পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম, আর্থিক চাপ এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ইত্যাদিকে গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিতে হবে অবশ্যই। প্রশিক্ষার্থীদের কাজের মূল্যায়ন ও তাদের পেশাগত অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রেখে কোথায় কোথায় ত্রুটি পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো চিহ্নিত করে নিতে হবে ব্যবস্থা। মনে রাখা দরকার, চিকিৎসকের প্রশিক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ, দায়িত্বের সঙ্গে তা পরিচালনা করার বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।