উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
কুমিল্লার দেবীদ্বারে বাঁশঝাড়ের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে সফিকুল ইসলাম (৪৫) নামের এক দিনমজুরকে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও পেটে ছোরা বসিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর রাতের খাবার খেয়ে পাশের ঘরের মশারির ভেতরে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত লিমনকে (৪৭) আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের বারুর গ্রামের এনু মেম্বারের বাড়িতে এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত সফিকুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত মহাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন। পাশাপাশি বাঁশ-বেত দিয়ে ওড়া, খাঁড়ি, ডুলা, চালনি ও কুলা তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাতেন। আটক অভিযুক্ত লিমন একই বাড়ির মৃত এনু মেম্বারের ছেলে। ঘটনায় জড়িত লিমনের ভাতিজা নিশাদ (২৬) ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ির পাশে নিজের বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কাটতে যান সফিকুল। এ সময় লিমন ও তার ভাতিজা নিশাদ গিয়ে তাকে বাঁশ কাটতে বাধা দেয়। সফিকুল বাঁশঝাড়টি নিজের দাবি করলে উভয়পক্ষের মধ্যে প্রথমে তর্কাতর্কী ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে ঘর থেকে দা, ছোরা ও হাতুড়ি এনে সফিকুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, হামলার সময় লিমন দিনমজুর সফিকুলকে শক্ত করে চেপে ধরে রাখে এবং নিশাদ তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। শেষ পর্যায়ে লিমন তার হাতে থাকা ছোরা দিয়ে সফিকুলের পেটে সজোরে আঘাত করলে নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে আসে। মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয়রা তার পেট গামছা দিয়ে বেঁধে দ্রুত দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর ঘাতক লিমন স্বাভাবিকভাবেই রাতের খাবার খেয়ে পাশের বাড়ির একটি ঘরে মশারি টাঙিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কাটা নিয়ে দ্বন্দ্বে সফিক নামে এক দিনমজুর ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। পুলিশ খবর পেয়ে মূল অভিযুক্ত লিমনকে আটক করেছে। তবে অপর অভিযুক্ত নিশাদ ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে; তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নার্গিস আক্তার বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন।