April 20, 2024, 1:39 pm
ব্রেকিং নিউজ

নগরীর এশিয়ান নার্সি কলেজের দু’ছাত্রীর রহস্যজনক আত্মহত্যা

রিপোর্টারের নাম:
  • আপডেট টাইম Sunday, February 4, 2024
  • 117 দেখা হয়েছে

ইমরান মোল্লা,খুলনা:

গেল দুই দিনের ব্যবধানে নগরীর এশিয়ান নার্সিং কলেজের দুই ছাত্রীর রহস্যজনক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার রাতে সীমা খাতুন এবং এর আগে শুক্রবার দুপুরে সুজাতা মন্ডল নামের দুই ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা দু’জনেই নগরীর শেখপাড়া এলাকার পৃথক দুইটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

এশিয়ান নার্সিং কলেজের ডিপ্লে¬ামা ইন নার্সিং সায়েন্স এ্যান্ড মিডওয়াইফারি কোর্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মৃত সীমা খাতুন তেরখাদার বাসিন্দা। একই কলেজের বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং কোর্সের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সুজাতা মন্ডল পাইকগাছা উপজেলার আমিরপুর গ্রামের শ্যামল কান্তি মন্ডলের কন্যা। একই প্রতিষ্ঠানের দুই ছাত্রীর মৃত্যুতে তাদের সহপাঠীরা মুষড়ে পড়েছে। দু’টি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তদন্ত করছে পুলিশ।

জানা গেছে, সুজাতা মন্ডল কলেজের পাশে শেখপাড়া প্রধান সড়কের হাসিবুর রহমানের বাড়ির চতুর্থ তলায় ভাড়া থাকতেন। শুক্রবার তার ঘর থেকে মোবাইল ফোন কলের শব্দ আসছিল। কিন্তু কেউ ফোন ধরছে না দেখে পাশের ঘরের বাসিন্দা কক্ষের ছিদ্র দিয়ে ঘরের সিলিংয়ে মরদেহ ঝুঁলতে দেখে স্থানীয় কাউন্সিলরকে জানান। তিনি সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশকে জানালে দুপুরে পুলিশ দরজা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে।

সহপাঠীরা জানান, বৃহস্পতিবার সুজাতা কলেজে যাননি। প্রতিবেশীরা জানান, বুধবারের পর থেকে তাকে ঘরের বাইরে দেখা যায়নি। তিনি একাই ওই ঘরে ভাড়া থাকতেন। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে সুজাতা ছিলেন সবার বড়।

মরদেহ উদ্ধারের দায়িত্বে থাকা সোনাডাঙ্গা থানার এএসআই আশিকা রেজা বলেন, ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলতে থাকা মরদেহটি কিছুটা ফুলে গিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে বুধবার বিকেলে অথবা রাতেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। দীর্ঘ সময় মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় থাকায় শরীরে বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে বিস্তারিত জানা যাবে।

অন্যদিকে, নগরীর শেখপাড়া হাজী ইসমাঈল ক্রস রোডের আমির মোল­¬ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন সীমা খাতুনসহ আরও চার ছাত্রী। বৃহস্পতিবার সবাই বাড়ি চলে যাওয়ায় সীমা একাই বাড়িতে ছিলেন। প্রতিবেশীদের সংবাদের ভিত্তিতে রাত ১টায় পুলিশ ঘরে ফ্যান ঝুলানোর হুকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনাস্থলে থাকা সোনাডাঙ্গা থানার এস আই আবদুল হাই বলেন, মৃতদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিলো না। শুনেছি ৩ মাস আগে তার স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়েছিল। স্বামীর নাম আজিম।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম জানান, দু’জনই সুইসাইড নোট দিয়েছে, মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। তবে দু’টি ছাত্রীই যেহেতু একই প্রতিষ্ঠানের, এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা আমরা তদন্ত করছি। এছাড়া একজনের প্রেমের সম্পর্কের কথাও শোনা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবার যদি কোনো মামলা করতে চায়, আমরা মামলা নিবো।এসব বিষয়ে জানতে এশিয়ান নার্সিং কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিমা নূর লুবনার ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

শেয়ার করুন
এই ধরনের আরও খবর...
themesba-lates1749691102