ইমরান মোল্লা,খুলনা:
আজ ১৫ নভেম্বর বুধবার সকাল ১১ টায় সময় খুলনা বয়রাস্থ ইসলামী ফাউন্ডেশন আয়োজিত নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌতুক ও মানব পাচার প্রতিরোধ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে কেএমপি’র পুলিশ কমিশনার মোঃ মোজাম্মেল হক, বিপিএম (বার), পিপিএম দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
কেএমপি’র পুলিশ কমিশনার প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতে বলেন-“আপনারা ইসলামের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত মানুষ। ইসলাম তো এসেছিল অন্ধকার বিদীর্ণ করে, আইয়ামে জাহেলিয়া যুগে, যেখানে নারীর কোন অধিকার ছিল না। সে সময় জীবন্ত কন্যা শিশুকে কবর দেয়া হতো। যেখানে সামাজিক রীতিনীতির কোন বালাই ছিল না। সেই বিভ্রান্ত জনগোষ্ঠীর সভ্যতার আলোতে আলোকিত করার জন্য মহান রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে এসেছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, পৃথিবীর মানুষের মুক্তিদাতা, রাসূলকূল শিরোমণি হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাঁর প্রবর্তিত ইসলাম ধর্ম গোটা বিশ্বে সভ্যতাকে আলোকিত করেছে। ইসলাম ধর্ম নারীদের যে সম্মান দিয়েছে, যে অধিকার দিয়েছে তা বর্ণনাতীত। ইসলাম নারীদেরকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান। কোন ব্যক্তিকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়- আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয় মানুষটা কে? আপনি বলবেন, আমার মা। কারণ আমাদের পরিবারের সব থেকে প্রিয় মানুষটা হলো আমারদের মা। ইসলাম নারীকে স্ত্রী হিসেবে যেমন মর্যাদা আবার নারীকে বোন হিসেবেও তেমন মর্যাদা দিয়েছে। এখানে সম্পত্তির অধিকারেও পরিপূর্ণতা দিয়েছে। বর্তমান সময়ে এই সমাজে যত দ্বন্দ্ব বিরোধ তার একটি বড় অংশ হচ্ছে জমা-জমি সংক্রান্ত। এজন্যই কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তায়ালা নারীদের জন্য একটি সূরা নাযিল করেছেন। সেই সূরাটির নাম আল-নিসা, আর নিসা অর্থ নারী। এখানে তিনি সম্পত্তির বন্টন সম্পর্কে বলেছেন। তাহলে আমরা সমাজে দেখতে পাই সম্পত্তি বন্টনের সময় বোন ভাইয়ের অর্ধেক সম্পত্তি পায়। যদি কারো সন্তান একেবারেই না থাকে তাহলে একজন কন্যা হলে অর্ধেক সম্পদ পায় এবং বাকিটা অন্যরা পায়। অর্থাৎ নারীকে বঞ্চিত নয় বরং সব জায়গায় সম্পত্তির অধিকার ইসলাম দিয়েছে। ইসলামতো একটি সাম্যবাদী ধর্ম। আমি দেখলাম ১৮৮৮ সালের আগ পর্যন্ত ইসলাম ব্যতীত অন্য ধর্মে নারীরা সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। আর ইসলামে ১৪০০ বছর আগে নারীদের সম্পত্তির অধিকার দিয়ে গেছে। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নির্দেশে নারীদেরকে সম্পত্তির অধিকার দিয়ে গেছেন। এ কারণেই শিক্ষার ব্যাপারেও বলা হয়েছে যে-‘ জ্ঞানার্জন করা প্রত্যেক নরনারীর উপর ফরয।’
তিনি আরো বলেন-‘সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌতুক ও মানব পাচার রোধে পুলিশের পাশাপাশি আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। যে কোন ধরণের সামজিক সমস্যা নিরসনে পারিবারিক মূল্যবোধে প্রাধন্য দিতে হবে। যৌতুক সামাজিক ব্যাধি তাই নিরসনে সামাজিক নিরাপত্তার অভাব একটি অন্যতম কারণ। নারী ও শিশু পাচার রোধে সবার আগে আমাদের প্রত্যেকেরই সচেতন হওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে নারী শিক্ষার প্রসার এবং সচেতনতা বাড়াতে হবে। যে কোনো মূল্যে নারী ও শিশু পাচার বন্ধ করতে হবে। নারী ও শিশু পাচার রোধে আলেম সমাজই জনসচেতনতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করতে পারে।’
উক্ত আলোচনা সভায় খুলনা বিভাগীয় ইসলামী ফাউন্ডেশনের পরিচালক মুহাম্মদ জালাল আহমদ সভাপতিত্ব করেন এবং খুলনা বিভাগের বিভিন্ন মসজিদের ১০৩ জন ইমাম ও ইসলামী ফাউন্ডেশনের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।