June 23, 2024, 3:12 pm
ব্রেকিং নিউজ

কুঞ্জবিথী নারী কল্যাণ ফাউন্ডেশন পাঁচ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা স্কুল শিক্ষিকা

রিপোর্টারের নাম:
  • আপডেট টাইম Thursday, November 2, 2023
  • 141 দেখা হয়েছে

খুলনা প্রতিনিধি:

খুলনার দৌলতপুরে কুঞ্জবিথী নারী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের নামে গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ সমিতির প্রধান হলেন দৌলতপুর বীণাপানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক কুঞ্জবিথী কনিকা। তিনি গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর তিন সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করেছে। এ ঘটনায় মাসাধীকাল ধরে চরম সমস্যায় রয়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার গ্রাহক। তদন্ত টিম কাজ শুরু করে বৃহস্পতিবার স্কুলে আসলে প্রতারিত গ্রাহকরা তদন্ত টিমের নিকট লিখিত জবানবন্দি দেন।দৌলতপুর বীণাপানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা কুঞ্জবিথী কনিকা খালিশপুর হাউজিং এষ্টেটের ঠিকানায় কুঞ্জবিথী নারী কল্যাণ ফাউন্ডেশন নামের একটি ক্ষুদ্র্ ঋণ সমিতি চালু করেন। যার রেজি নং-খুল/৪৮৮/২০২০। তিনি স্কুলে শিক্ষক এ সুনামকে কাজে লাগিয়ে দৌলতপুর এলাকায় ফাউন্ডেশনের ব্যাপক কার্যক্রম চালু করেন। স্কুলের পাশেই দত্তবাড়ি বুলবুল সরদারের বাড়ি ভাড়া নেন ফাউন্ডেশনের অফিস। তিনি গ্রাহকের কাছ থেকে সঞ্চয় ও ডিপিএস বাবদ টাকা জমা নেয়া শুরু করেন।

সরকারি চাকুরি করে আর স্কুলের শিক্ষক এ দু’টি বিষয় সামনে রেখে গ্রাহকরা সরল বিশ্বাসে তার ফাউন্ডেশনের টাকা জমা রাখে। এভাবে তিনি প্রায় পাঁচ হাজার সদস্য সংগ্রহ করেন। তাদেরকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে এককালীন নগদ টাকা জমা নেন। অন্য পন্থায় তিনি মাসিক সঞ্চয় জমা নিতে থাকেন। প্রথম দিকে তার লেন দেন ভাল থাকলেও ডিপিএস শেষ পর্যায়ে এসে তিনি টাকা ফেরৎ দেয়া নিয়ে নানা টালবাহানার আশ্রয় নিতে শুরু করেন। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা এর প্রতিবাদে মামলাসহ নানা ধরনের আন্দোলন সংগ্রাম করে। কিন্তু তিনি কতিপয় প্রভাবশালীর সহায়তায় গ্রাহকের টাকা না দিয়ে প্রভাবশালীদের সাথে গোপন চুক্তিতে যান। এতে করে বিথী প্রতারিত গ্রাহকদের কোন পাত্তাই দেননি।

এক পর্যায়ে গ্রাহকরা মামলা দায়ের করেন। শুরু করেন আন্দোলন। লিখিত অভিযোগ দেন খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট। ওই অভিযোগে গ্রাহকের টাকার পরিমাণ প্রায় পাঁচ কোটি টাকা দাবি করা হয়। ওই টাকা না দিয়ে তিনি সেপ্টেম্বর মাস থেকে পুরো লাপাত্তা হয়ে যান। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখেন। এতে করে গ্রাহকরা তার বাড়ি, অফিস ও স্কুলে গিয়ে কোথাও না পেয়ে পাগলের মত খুঁজতে থাকে। এসব অভিযোগের কারণে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করেন।

ডুমুরিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার হাবিবুর রহমানকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অন্য দু’ সদস্য হলেন খুলনা সদর সহকারি থানা শিক্ষা অফিসার রেক্সোনা আক্তার ও ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারি থানা শিক্ষা অফিসার মোস্তাকিন বিল্লাহ। গত ২৫ অক্টোবর এ কমিটি গঠন করা হয়। যা সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্তু বিষয়টি অনেক জটিল বলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করা সম্ভব হবে বলে জানান তদন্ত টিমের প্রধান ডুমুরিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, তদন্ত করতে তারা বিথীর স্কুলে আসেন। সেখানে তারা প্রতারিত গ্রাহকের লিখিত অভিযোগ জমা নেন। এছাড়া বিথী মেডিকেল ছুটি চেয়ে ডাক যোগে আবেদন করলেও কর্তৃপক্ষ তা অনুমোদন করেননি বলে তিনি জানান। তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি না তা তিনি বলতে পারেননি।

দৌলতপুর বীণাপানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শেফালী বেগম বলেন, শিক্ষিকা বিথী স্কুল থেকে কোন ছুটি নেয়নি। গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি স্কুলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
ফাউন্ডেশনের গ্রাহক রেখা বেগম জানান, তার সদস্য নং-০৮১৮। তিনি ফাউন্ডেশনের নিকট ৮০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছেন। শিক্ষিকা বিথী জাতিরজনক শেখ মুজিবুর রহমানের নাম ব্যবহার করে ৫/৬ হাজার গ্রাহকের টাকা মেরে দিয়েছে। মোবাইল ফোন বন্ধ করে এখন সে লাপাত্তা। এতে করে তার সংসারে অশান্তি শুরু হয়েছে। কনিকা খাতুন নামের এক গ্রাহক বলেন, সমিতির নিকট তার পাওনা রয়েছে ১৫ লাখ টাকা। গত দু’ বছর ধরে বিথী তার টাকা না দিয়ে ঘুরাচ্ছে।

আসমুন শিকদার জানান, তার পাওনা রয়েছে চার লাখ টাকা। তিনি মামলা করেছেন টাকা পেতে। নাজমুন নাহার নাজু বলেন, তার চার লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। এর মধ্যে এফডিআর করে জমা রাখা হয়েছে তিন লাখ টাকা। সমিতি করা হয় এক লাখে মাসে তিন হাজার টাকা লাভ দেবে বলে প্রলোভন দেখানো হয়। এসব টাকা না দিয়ে বিথী এক মাস ধরে লাপাত্তা হয়েছে।গ্রাহক আন্না ইসলাম বলেন, তিনি সমিতির নিকট ১৫ লাখ টাকা পাবেন। ২০১৯ সাল থেকে বিথী এ সমিতি চালু করে। তার মূল অফিস খালিশপুর হাউজিং টি-৩৪ নাম্বার বাসা। তিনি এসব গ্রাহকের টাকা নিয়ে ওইখানে বিশাল বাড়ি করেছেন। ফারজানা আক্তার বলেন, তার পাওনা সাড়ে তিন লাখ টাকা। ইয়াসমিন পাবে দু’লাখ টাকা। রেবিনা পাবেন দু’লাখ ৬০ হাজার টাকা। হাফিজুর রহমান পাবেন তিন লাখ ৫৪ হাজার টাকা।

অন্যান্য গ্রাহকরা বলেন, বিথী স্কুলের শিক্ষক হওয়ায় সবাই তাকে অন্ধ বিশ্বাসে টাকা দেয়। কিন্তু তিনি যে এত প্রতারণা করবেন তা কেউ বুঝতে পারেননি। এ জন্য চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন। কারণ বিথী এখন লাপাত্তা রয়েছে। তার মোবাইল বন্ধ, অফিস বাসা আর স্কুলে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না।ফরহাদ আহমেদ হিরা নামের এক গ্রাহক জানান, তিনি ফাউন্ডেশনের কাছে ১০ লাখ ১৮ হাজার টাকা পাবেন। এখন টাকা না দিয়ে বিথী নিরুদ্দেশ। তিনি চরম দুঃচিন্তায় রয়েছেন বলে জানান। যে বাড়িতে ভাড়া নিয়ে অফিস করে সেই বাড়িওয়ালা আন্না ইসলাম বলেন, বিথী তার ঘর ১৮৫০০ টাকা মাসিক ভাড়া নেয়। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি লাপাত্তা। শতশত গ্রাহকরা পাওনা টাকা চাইতে তার বাড়ি আসছে। কিন্তু অফিস তালা দেয়া দেখে তারা হতাশ হয়ে ফিরে যান। এমন কি তিনি পর্যন্ত ফাউন্ডেশনের নিকট টাকা পান বলে জানান।

কুঞ্জবিথী নারী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের প্রধান ও দৌলতপুর বীণাপানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা কুঞ্জবিথী কনিকার সাথে যোগাযোগ করতে তার স্কুলে ও ফাউন্ডেশনের অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এমন কি তা

শেয়ার করুন
এই ধরনের আরও খবর...
themesba-lates1749691102