হায়দার আলী. চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানার চাঞ্চল্যকর স্ত্রী হত্যা মামলার পলাতক ঘাতক স্বামীকে ১৪ বছর পর নগরীর কোতোয়ালী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে র্্যাব-৭। গ্রেফতারকৃত ঘাতক স্বামী হলেন- মামুনুর রশীদ (৫৩)। মামুনুর রশীদ হলেন- আনোয়ারা থানাধীন কৈখাইন এলাকার আব্দুল শুক্কুরের ছেলে।
২০ জুলাই (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন ব্রীজঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘাতক স্বামী মামুনুর রশীদকে গ্রেফতার করেছে র্্যাব-৭ চট্টগ্রাম।
র্্যাব-৭ চট্টগ্রামের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) নুরুল আবছার জানান, "ঘাতক স্বামী মামুনুর রশীদের হাতে নিহত স্ত্রী কলি আক্তার বরগুনা জেলার তাল তলী থানাধীন নিদ্রাচর এলাকার বাসিন্দা। ২০০২ সালের জুন মাসে ভিকটিম কলি আক্তার চট্টগ্রামে এসে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। সেসময় ঘাতক মামুনুর রশীদের সাথে কলির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সেই সূত্রে কলি আক্তার তার পরিবারকে না জানিয়ে ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘাতক মামুনুর রশীদকে বিবাহ করে। পরবর্তীতে কলি আক্তারের পরিবার তাদের বিবাহ মেনে নেয়। তাদের সংসারে ৩ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। পরবর্তী সময়ে কলির স্বামী মামুনুর রশীদ ও তার পরিবারের সদস্যরা যৌতুকের দাবী করে আসছিল। মেয়ের সুখের আশায় কলির ঘাতক স্বামী মামুনুর রশীদকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিল। তখন সেই টাকা নিহত কলি আক্তারের স্বামী মামুনুর রশীদ উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপন করে নষ্ট করে ফেলে। উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপনের ফলে মামুনুর রশীদ ডাকাতিসহ বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে কারাগারে যায়। কারাগারে থাকা অবস্থায় ভিকটিম কলি আক্তার পরিবার ঋণ করে ১ বছর পর মামুনুর রশীদকে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত করে। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মামুনুর রশীদ তার স্ত্রী কলির পরিবারের নিকট থেকে ৫০ হাজার টাকার চাপ দিয়ে থাকলে তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। তখন থেকে কলিকে তার স্বামী মামুনুর রশীদ ও তার পরিবারের সদস্যরা মারধরসহ নানা নির্যাতন করতে থাকে।"
তিনি আরও জানান, "গত ২০০৯ সালের ২৫ মে বিকাল আনুমানিক ৩ টার দিকে ভিকটিমের মা ফোন করে তার মেয়ে কলি আক্তারের খবর জানতে কলির চাইলে ঘাতক স্বামী মামুনুর রশীদ জানায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে কলি আক্তার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরে কলির ঘাতক স্বামী মামুনুর রশীদ ফোনে কলির মাকে জানায় তার মেয়ে ডায়রিয়ায় মারা গেছেন। তার দাফন কাফনও শেষ হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত কলির পরিবার আশেপাশের লোকজনের নিকট জানতে পারে যৌতুকের টাকা দিতে না পারার কারনে কলি আক্তারকে হত্যা করে আলামত গোপন করার জন্য তারাতাড়ি দাফন করে ফেলেছে। এ ঘটনায় নিহত কলি আক্তারের মা বাদী হয়ে কলির স্বামী ঘাতক মামুনুর রশীদসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আনোয়ারা থানায় মামলা দায়ের করেন। আসামিদের গ্রেফতারে র্্যব-৭ গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় কলির ঘাতক স্বামী মামুনুর রশীদকে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঘাতক মামুনুর রশীদকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।"